
১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রাক্তন সম্বল জেলা সার্কেল পুলিশ অফিসার আনজু কুমার চৌধুরী (বর্তমানে ফিরোজাবাদে ASP) এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে FIR রেজিস্টার করার ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সম্বল জেলা সদর বিচারক (CJM) ভবাংশু সুধীর মুসলিম ভুক্তভোগীদের পক্ষে অভিযুক্ত পুলিশ আনজু কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে FIR রেজিস্টারের আদেশ দেয়। এই FIR এর ভিত্তি ছিল মুহাম্মদ ইয়ামিন নামে সম্বলের এক স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দার অভিযোগ।
অভিযোগে ইয়ামিন উল্লেখ করেছেন, ২৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আলমকে সম্বল শহর জামে মসজিদের নিকটে গুলি করেছিল পুলিশ। সেসময় মোহাম্মদ আলম তার ভ্যানে রাস্ক ও বিস্কুট বিক্রি করছিলেন, তার গায়ে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর জন্য ভুক্তভোগী আলমকে একাধিক মেডিকেল অপারেশন করতে হয়েছে।
তখনকার পুলিশ ইনচার্জ আনজু কুমার চৌধুরি এবং আরও ১০-২২ জন অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত করেছেন ইয়ামিন। মসজিদ কেন্দ্রিক একটি তদন্তের সময় এই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। ইয়ামিন জানান, সহিংসতার সময় হত্যার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালিয়েছিল হিন্দুত্ববাদী পুলিশ কর্মীরা।
ইয়ামিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে CJM ভবাংশু সুধীর ১১ পৃষ্ঠার আদেশে জানায়, দায়িত্ব পালনের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর অপরাধ থেকে ছাড় পাবে না পুলিশ। এটিকে একটি অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে অভিমত জানিয়েছে জেলা সদর আদালত।
কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা সদর আদালতের এই আদেশ স্থগিত করে আদেশ জারি করেছে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত। অভিযুক্ত আনজু কুমারের পিটিশনের ভিত্তিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সমিত গোপাল উক্ত FIR রেজিস্টার আদেশ স্থগিত করে। বিষয়টি আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
এছাড়া ভুক্তভোগী মুসলিমদের পক্ষ নেওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি CJM সুধীরকে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার এই বদলি নির্দেশে সমালোচকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের আক্রমণ হিসেবে তারা তুলে ধরেছে।
অপরদিকে ভুক্তভোগী আলমকে হেনস্থার লক্ষ্যে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, নভেম্বর ২০২৪ সালের উক্ত দাঙ্গায় মোহাম্মদ আলম জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন আলমের পিতা।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3fj84e9x


