বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল উত্তর প্রদেশের সম্ভলে অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসা ও সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িঘর

0
0

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর প্রদেশে সম্ভল জেলার নারোলি শহরে অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসা ও পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। এতে স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

‎মাদ্রাসাটি ২৮৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এর আগে মাদ্রাসাসহ আশেপাশের ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘর স্বেচ্ছায় ত্যাগ করতে স্থানীয় মুসলমানদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল, তবে নোটিশ জারির পেছনে সুস্পষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয় নি।

‎মাদ্রাসা নির্মূলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী। মাদ্রাসাটি দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। একজন অভিভাবক বলেন, এই মাদ্রাসা আমাদের গরীব সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দিত। আমরা দরিদ্র, ব্যয়বহুল স্কুলে খরচ বহনের সক্ষমতা আমাদের নেই। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়াশোনা করবে?

‎শাবানা বেগম নামে ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। হঠাৎ নোটিশ দেওয়া হয় যে, আমাদের বাড়িটি নাকি অবৈধ। এখন আমরা কোথায় যাব?

‎প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারোলি পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান বিটন মালিক। তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে কোনও আগাম নোটিশ পাইনি। মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় স্থান, ইসলাম শিক্ষার কেন্দ্র। এটি ভাঙ্গার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল।

‎ভুক্তভোগী মুসলিম বাসিন্দাগণ জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞ আচরণের ফলে আমাদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা উভয়ই শেষ হয়ে গেছে। একই ধরনের পদক্ষেপ আরও অনেক বাড়িঘরের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎এলাকার নারীরা দূর থেকে তাকিয়ে এই করুণ দৃশ্য দেখছিলেন, কেউ কেউ কান্নায় পড়েছিলেন। তাদের ভাষায়, মাদ্রাসাটি আমাদের ইবাদত ও দ্বীনি ইলম হাসিলের জায়গা ছিল। এটি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছিল।

‎আইনজীবী সমীর খান এই প্রসঙ্গে বলেন, যদি নোটিশ জারি করা হয়, তবে তাদের অবশ্যই এই নোটিশের কারণ স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এর দর্শানো কারণের জবাব প্রদানের জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দিতে হবে।

‎স্থানীয় আলেম মাওলানা ফারুক আহমেদ বলেন, মাদ্রাসা শুধু একটি ভবন নয়। এটি ঈমান ও ইলমের কেন্দ্র। জমি সংক্রান্ত আইনি কোনও সমস্যা থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যেত। আমরা মুসলিম সম্প্রদায় ন্যায়বিচার, ন্যায্যতা ও শান্তি চায়।

‎উল্লেখ্য যে, ভারতের উত্তর প্রদেশজুড়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও মুসলিমদের ঘরবাড়ি অবৈধ ঘোষণা করে বুলডোজার অভিযান ক্রমেই বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষতি এড়াতে সরকারী পদক্ষেপের পূর্বেই বাসিন্দারা নিজেরাই স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলছেন।


‎তথ্যসূত্র:
‎1. https://tinyurl.com/3y6ar9ca

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‎১৫ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান জাতির ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন