
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দুর্বৃত্তের হামলার পর হালদা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ রাউজান উপজেলার তরুণ মো. সাব্বিরের (২১) লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে হালদা নদীর রাউজানের পশ্চিম পাশে ছায়ার চর নামক এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হাটহাজারী উত্তর মার্দাশা রামদাশ হাটস্থ হালদা অস্থায়ী নৌ পুলিশের এএসআই মো. রমজান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ‘আমরা তিন দিন ধরে সাব্বিরের খোঁজে নদীতে টহল দিয়ে আসছি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নদীতে বালু তোলার লোকজন নদীতে উপুড় অবস্থায় মানুষের একটি মাথা দেখতে পেয়ে নৌ-পুলিশকে খবর দেয়। এরপর সকাল পৌনে ৯টার দিকে আমরা নদীর মাঝ থেকে ভাসমান অবস্থায় সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করি। পরে পরিবারের লোকজন তার পরিচয় চিহ্নিত করে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার রামদাস হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজের পর থেকে যৌথভাবে তল্লাশি চালায় নৌ-পুলিশ ও প্রশাসন। নিখোঁজ তরুণ মো. সাব্বির (২১) রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।
তিনি আব্দুল মান্নান ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে এবং দুই বোনের একমাত্র ভাই। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাব্বির তার বন্ধু মো. মারুফকে সঙ্গে নিয়ে একটি ওরশ মাহফিলে অংশ নিতে রামদাস হাটে যায়। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে দুজনই নদীতে ঝাঁপ দেন। মারুফ আহত অবস্থায় ফিরে এলেও সাব্বির আর ভেসে ওঠেননি। হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ওরশে বন্ধুদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সাব্বিরের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি নদীতে লাফ দেন এবং তলিয়ে যান।
বিষয়টি জানার পর পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সাব্বির পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। এলাকায় ভদ্র ও পরিশ্রমী যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দলীয় কোনো পদবি না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে তাকে দেখা যেত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
সাব্বিরের চাচা মো. মোতালেব জানায়, ‘সারা দিন কাজ করে বন্ধুকে নিয়ে ওরশে গিয়েছিল। এই যাওয়া যে তার শেষ যাওয়া হবে, তা কখনো ভাবিনি।‘ প্রতিবেশী মো. ইলিয়াস জানান, ‘মারুফের ভাষ্যমতে, দুর্বৃত্তদের আঘাতে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সাব্বির আর জীবিত ফিরে এলো না।’ এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার।
তথ্যসূত্র:
১। হাটহাজারীতে দুর্বৃত্তের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া
https://tinyurl.com/mdhjvutu


