
কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রতি দলিলে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল মিয়া।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রথমে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও পরে অভিযুক্ত নেতারা সরাসরি অফিসে গিয়ে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাপ সৃষ্টি করে।
ব্রাহ্মণপাড়া দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন দৈনিক আমার দেশকে জানায়, ‘ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আমাদের দলিল লেখক সমিতির ক্যাশিয়ারের কাছে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে আমরা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দলিল লেখক সমিতির সব সদস্য বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরবর্তী সময়ে এলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানায়, ‘আমাদের বলা হয়েছে, প্রতি দলিল থেকে ৫০০ টাকা দিতে হবে। আমরা বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেইনি। পরে আমির হোসেন ও নজরুল ইসলাম আবার অফিসে জিজ্ঞেস করছে তাদের বিষয়টি আমরা কী করলাম। তখন আমরা কিছু না বলার পরেও আমাদের শাসিয়ে গেছে। এতে করে অফিসে কর্মরত দের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
একাধিক দলিল লেখক জানায়, প্রতিদিন গড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলিল নিবন্ধিত হয় এই অফিসে। সেই হিসাবে প্রতি দলিলে ৫০০ টাকা আদায় করা হলে মাস শেষে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ সম্ভব। যদিও ঠিক কত দলিল নিবন্ধন হয়, সে বিষয়ে অফিশিয়াল কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি দপ্তরে এ ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হতে পারে, কারণ শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থের বোঝা দলিলগ্রহীতাদের ওপরই বর্তাতে পারে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার দীপঙ্কর সাহা আমার দেশকে জানায়, দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন বিষয়টা আমাকে জানিয়েছে। বিএনপির দুজন নেতা অফিসে এসেছিল। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারছি না।
তথ্যসূত্র:
১। প্রতি দলিলে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি বিএনপি নেতার
– https://tinyurl.com/mr3zu9w9


