রংপুরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার জন্য ১৫ লাখের বদলে ৭ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে আসায় আটক শিক্ষক

0
25

রংপুর জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) রোকসানা বেগমকে সাত লাখ টাকা ঘুস দিতে এসে সম্প্রতি আটক হয় এক শিক্ষক। তখন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চাহিদা মোতাবেক ১৫ লাখ টাকার বদলে মাত্র সাত লাখ টাকা নিয়ে আসায় ওই শিক্ষককে পুলিশে দেওয়া হয়।

আটক মাইদুল ইসলাম খান কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ওই এলাকার আব্দুল আখের খানের ছেলে।

রংপুর জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোকসানা বেগমের কার্যালয়ে ঘুসের টাকা নিয়ে এসে আটক হন মাইদুল । পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটে।

দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, এ ঘটনার পর গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাইদুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম নিজ এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানায়, শিক্ষা অফিসের আশরাফ আলীর সঙ্গে আমার স্বামীর কথা হয়েছিল। এ কারণে জমি বন্ধক এবং গরু বিক্রি করে টাকাগুলো নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু টাকা কম হওয়ায় তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জাহানারা বেগম।

এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও তিন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার জন্য জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোকসানা বেগমের কম্পিউটার অপারেটর আশরাফের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। কিন্তু মাত্র সাত লাখ টাকা নিয়ে আসায় তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।

জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ওই শিক্ষক আশরাফের মাধ্যমে চুক্তি করে টাকা নিয়ে এসেছিল। তাদের চুক্তি ঠিক হয়েছিল ১৫ লাখ টাকায়। কিন্তু টাকা কম দেওয়ার কারণেই তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তারা আরও জানায়, উপপরিচালক রোকসানা বেগমের সব কাজ করেন কম্পিউটার অপারেটর আশরাফ। এর আগে সে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হলে আশরাফকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। রোকসানা বেগম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকাকালীন যেখানেই বদলি হয়েছে, সেখানেই সে আশরাফকে সঙ্গে নিয়ে অনেক কাজ করিয়েছে। এখনো এমপিওভুক্তির কাজ এলে সেগুলো সে আশরাফকে দিয়ে করায়।

একাধিক কর্মকর্তা জানায়, উপপরিচালক নিজে কোনো টাকা নেয় না। আশরাফের মাধ্যমেই সবকিছু করে। আশরাফের সঙ্গে যারা সম্পর্ক রাখতে পারে, তাদের কাজগুলোই হয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানায় তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আঞ্চলিক পরিচালক আমির আলী জানায়, ‘এখানে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। তদন্ত করলে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে।’

ঘটনার বিষয়ে রোকসানা বেগম জানায়, ‘ভোটের দুদিন আগে অফিসে এসেছিলেন, এরপর ঘটনার দিন আবার আসেন। আমি তখন তাকে বলি, ‘আপনি তো ভোটের আগে এসেছিলেন, আজ আবার কেন এসেছেন?’ মাঈদুল আমাকে বলেন, ‘ম্যাডাম, আপনার সঙ্গে একটি কথা আছে। আমি বললাম ‘আপনার সঙ্গে তো ভোটের দুদিন আগেই আমার কথা হয়ে গেছে। আবার আজ কীসের কথা বলতে এসেছেন?’ তিনি তখন মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ দেখান। সেখানে লেখা ছিল- ‘এক শিক্ষকের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ও তিন কর্মচারীর জন্য তিন লাখ টাকা এখানে আছে।’ এ মেসেজ দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। তখন আমার অফিসের সবাই লাঞ্চে গেছে।’

রোকসানা বেগম আরও জানায়, মাঈদুল আমাকে বলেছে, ‘আপনার জন্য একটি প্যাকেট নিয়ে এসেছি, ম্যাডাম। এখানে একটি গিফট আছে।’ তখন আমি আমার অফিসের কর্মচারীকে ডেকে বলি, দেখো তো ওই ব্যাগটায় কী আছে? খোলার পর দেখতে পাই সব টাকা। টাকা দেখে আমি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করি।

১৫ লাখ টাকা ঘুসের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রোকসানা বেগম জানায়, ‘কাজাইকাটা স্কুলটি ২০২০ সাল থেকে এমপিওভুক্ত। এখানে দুই-তিনজন কর্মচারী ও একজন শিক্ষকের নাম এমপিওভুক্তিতে আসেনি। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি বলেছিলাম নিয়মের বাইরে যেতে পারব না।’

এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি শাহাজন আলী জানায়, শিক্ষা অফিসের ডিডি আমাদের ফোন করে ঘুসের বিষয়টি জানান। আমরা সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে দেখতে পাই তার রুমে একজন বসে আছেন কালো ব্যাগ নিয়ে। সেখানে সাত লাখ টাকা পাই। তাকে ৫৪ ধরায় গ্রেপ্তার করা হয়।


তথ্যসূত্র:
১। ১৫ লাখের বদলে সাত লাখ টাকা ঘুস নিয়ে আসায় আটক
– https://tinyurl.com/5bj5rcmf

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু পর থেকে ২৫টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস, ১০০ এর অধিক শত্রু সেনা নিহত: আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
পরবর্তী নিবন্ধরাজবাড়িতে আবাদি পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করে দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা