
দখলদার ভারতীয় বাহিনীর অস্ত্র ও বেয়নেটের ছায়ায় আরও একটি ঈদ পালন করছে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলিম জনগণ। অব্যাহত সামরিক নিপীড়ন ও বিধিনিষেধের মধ্যে কাশ্মীরি মুসলমানরা সত্যিকারের ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত। নির্বিচারে ঘেরাও ও তল্লাশি অভিযান, সামরিক রেইড ও হয়রানি উক্ত অঞ্চলের মুসলমানদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছে।
২০১৯ সালের আগস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করেছিল দখলদার ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকেও বঞ্চিত কাশ্মীরের মুসলমানগণ।
কাশ্মীরের শ্রীনগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ সিলগালা করে রেখেছে দখলদার ভারতীয় প্রশাসন। এই মসজিদে মুসল্লিদের জুমা’র নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে, একই সাথে এবারের ঈদেও টানা ৮ বছরের মতো এই গ্র্যান্ড মসজিদে তালা লাগানো রয়েছে।
নিজেদের একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে থাকে ভারত, তা সত্ত্বেও কাশ্মীরিদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করার মাধ্যমে নিজস্ব গণতান্ত্রিক নীতিকেও মেনে চলছে না দখলদার সরকার।
তারা পরিকল্পিতভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলিম পরিচয়কে টার্গেট করছে। এছাড়া তারা মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলতে এবং হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে পদ্ধতিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের নামে হিন্দু রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান প্রচার করছে দখলদার বিজেপি সরকার। তারা কাশ্মীর অঞ্চলের মুসলিম পরিচয়কে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে ঈদগাহ, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলো নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কাশ্মীরি মুসলিম ছাত্রদের হিন্দু ভজন গান এবং হিন্দু আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই সকল পদক্ষেপ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটির জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক দৃশ্যপটকে নতুন রূপ দেওয়ার একটি সংগঠিত প্রয়াস।
তবে নিজেদের মুসলিম পরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কাশ্মীরের মুসলমান জনগণ। স্বাধীনতা অর্জন ও সত্যিকার অর্থে ঈদ উদযাপনের জন্য তাদের সংকল্প অটুট রয়েছে।
কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্যেও ভারতীয় দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি অর্জনের প্রত্যাশায় তারা সাহস ও দৃঢ়তার সাথে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/mvhxd9vt


