পটুয়াখালীর মহিপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে দুর্নীতি, জেলেদের ৩৬ টন চাল আত্মসাৎ

0
0

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন ধুলাসার ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত ৮০ কেজি চালের বিপরীতে জেলেদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি করে চাল।

দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় দরিদ্র জেলেদের কার্ড আটকে রেখে স্লিপের মাধ্যমে কম পরিমাণ চাল নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। জেলেরা ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতেও সাহস পাচ্ছেন না।

জানা যায়, প্রতি জেলেকে ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ৩০ ও ৫০ কেজির বস্তাতেও অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ কেজি ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চাল পরিবহনের খরচের কথা বলে জনপ্রতি নগদ ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে নিবন্ধিত জেলেদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রথম দুই মাসের ৮০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ধুলাসার ইউনিয়নে ১,৪৫০ জন জেলের জন্য এই চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রত্যেক জেলকে ২২ থেকে ৩২ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। এতে মোট প্রায় ৩৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

কাউয়ারচর গ্রামের জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘আমারে ৩০ কেজির দুইটা বস্তা দিছে, কিন্তু প্রতিটাতেই অন্তত দেড় কেজি করে কম।’ রেজাউল নামে আরেক জেলে বলেন, ‘৫০ কেজির বস্তা পাইছি, তাতেও প্রায় ২ কেজি কম।’

এছাড়া মতি মোল্লা, চান মিয়া মল্লিক, দুলাল বয়াতি ও দুলাল গাজীসহ অনেকেই একই ধরনের অভিযোগ করেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কইলে কী অইবে। কেউ অ্যাগো বিচার করে না। গরিব-ক্ষয়রাতির চাউল চুরি করছে। লজ্জাও নাই।’

সরকারি সহায়তা কর্মসূচির এই চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


তথ্যসূত্র:
১। মহিপুরে জেলেদের ৩৬ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ
– https://tinyurl.com/mt7cja4a

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক রাতে তিন বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি