
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের টিলাবেরি রাজ্যে নদীতে টহলরত সেনাবাহিনীর একটি স্পিডবোট লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মুজাহিদিনরা। এতে নাইজার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আমাদু মামান (সোলাইমান) ও তার দুইজন সঙ্গী নিহত হয়।
আয-যাল্লাকা মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ই এপ্রিল বুধবার বিকালে, জেএনআইএম মুজাহিদিনরা টিলাবেরি রাজ্যের সাই ও কারকাস এলাকার মধ্যবর্তী নদীতে নাইজার সেনাবাহিনীর টহলরত একটি স্পিডবোট লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। নাইজার সেনাবাহিনীর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আমাদু মামান তার ৪ সেনা সদস্য নিয়ে জেএনআইএম এর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের একটি মিশনে উক্ত এলাকায় নদীতে টহল দিচ্ছিল। এসময় বিকাল ৫টার দিকে, নাইজার নদীর তীর থেকে সশস্ত্র জেএনআইএম মুজাহিদিনরা শত্রু সেনাদের স্পিডবোট লক্ষ্য করে অতর্কিত আক্রমণ চালান।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন মামান সহ তার সাথে থাকা অন্তত ৩ সেনা সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। হামলার পর ক্যাপ্টেনের মরদেহ স্পিডবোটের উপরেই পরে থাকে, আর অন্য দুই সেনা সদস্যের মরদেহ নাইজার নদীতে পড়ে স্রোতের সাথে ভেসে যায়।
উল্লেখ্য যে, মুজাহিদদের হামলায় নিহত ক্যাপ্টেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাই এলাকায় জেন্ডারমেরি (সেনাবাহিনীর) দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। কৌশলগত এই সীমান্ত এলাকায় মুজাহিদদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োজিত থাকায় তাকে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হতো। দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মুজাহিদদের হামলার ২৪ ঘণ্টা পরেও এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মরদেহ নদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু তাকে উদ্ধার করার মতো সাহসও করতে পারেনি নাইজার সেনাবাহিনী। তাই প্রশ্ন উঠছে ইসলাম ও মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত নাইজার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জীবনের মূল্য কী এবং সম্মুখ সমরে লড়াইরত জান্তাদের মৃত্যুর মূল্যই বা কী?
তথ্যসূত্র
– https://tinyurl.com/4hwbvtv7


