
মানবাধিকার ও মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলে আফগানিস্তানে আসা বিদেশি শক্তিগুলোই দেশটির জনগণের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী মৌলভী নূরুল্লাহ নূরি হাফিযাহুল্লাহ। তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে যারা আফগানিস্তানে এসেছিল, তারা শেষ পর্যন্ত আফগান জনগণের জন্য গণহত্যা ও ধ্বংস ডেকে এনেছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালানোর পরও দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মাদকাসক্ত মানুষ রেখে যাওয়া হয়েছে।
গজনি প্রদেশের জাগোরি জেলায় ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতি সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভী নূরুল্লাহ নূরি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, মানবাধিকার রক্ষার যে দাবি নিয়ে বিদেশি শক্তিগুলো আফগানিস্তানে এসেছিল, তাদের কর্মকাণ্ডের বাস্তব ফল ছিল গণহত্যা, ধ্বংস ও দীর্ঘস্থায়ী সংকট। তাই মানবাধিকারের কথা বলা আর বাস্তবে মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা- দুটিকে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গাজার সাম্প্রতিক ঘটনাবলিও মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক দাবির গভীর বৈপরীত্য সামনে এনেছে। মানবাধিকার ও মানবতার কথা বলা পশ্চিমা শক্তিগুলোর রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তায় ইসরায়েল গাজায় যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তাতে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ধ্বংস হয়েছে বেসামরিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ।
ফলে গাজার বাস্তবতা শুধু ইসরায়েলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই নয়, মানবাধিকারের কথা বলা পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকা ও অবস্থানকেও কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যে শক্তিগুলো বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে, তাদের সহায়তা ও সমর্থনে পরিচালিত এই হত্যাযজ্ঞ সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার গভীর বৈপরীত্যই প্রকাশ করে।
গত দুই দশকের যুদ্ধের সামগ্রিক মানবিক মূল্যও অত্যন্ত ভয়াবহ। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মৌলভী নূরুল্লাহ নূরি আরও বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগান জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে এবং দেশের মানুষের জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে- মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কোনো দেশের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা নির্ধারণ করতে হলে তার প্রকৃত ফলাফলও বিবেচনায় নিতে হবে।
আফগানিস্তান থেকে ইরাক, সিরিয়া থেকে গাজা- পশ্চিমা শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ ও সামরিক অভিযানের দীর্ঘ ইতিহাসে বারবারই দেখা গেছে ধ্বংসযজ্ঞ, প্রাণহানি ও মানুষের দুর্ভোগ। অথচ বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় প্রবক্তা হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে তারাই। গাজা ও আফগানিস্তানের রক্তাক্ত বাস্তবতা তাই প্রশ্ন তোলে- যাদের কর্মকাণ্ডে মানুষের জীবন ও মানবিক মর্যাদা বারবার পদদলিত হয়েছে, তাদের মুখে মানবাধিকারের বুলি কি আদৌ মানায়?
তথ্যসূত্র
1. in the name of combating narcotics and ensuring human rights committed genocide against Afghans
– https://tinyurl.com/3exdw9v5


