
বিয়ে পড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে এক কাজীকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান (৫২) বাদী হয়ে সোমবার রাতে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ রাজিব ও তার সহযোগী স্বপনসহ দুজনকে গ্রেফতার করে এবং চাঁদাবাজির ২ লাখ টাকা জব্দ করে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে রাজিব ও তার সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে কাজী মো. হাবিবুর রহমানের কাটাখালীর বাসায় যায়। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে জোরপূর্বক মুক্তারপুর এলাকার একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার লাইসেন্স বাতিল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি টাকা দিতে রাজি হলে তাকে অগ্রণী ব্যাংকের কাঁচাবাজার শাখায় নিয়ে তার হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা তোলানো হয়। এরপর তার স্ত্রীর উপস্থিতিতে আসামিরা ওই টাকা নিয়ে নেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কাজীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে জানায়, রাতে বিষয়টি জানার পর তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে থানায় যান। পরে ওসির সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার হলেও বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানান, জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজিব হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায় থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল।
তথ্যসূত্র:
১। বিয়ের নামে কাজিকে আটকে চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
– https://tinyurl.com/4jnh3zfr


