
ভারতে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে গভীর রাতে ১০৩ বছরের পুরনো একটি মসজিদ ও এর আশপাশের কয়েকটি মুসলিম বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট রাতের এ অভিযানে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) সদস্যরা অংশ নেয়।
ইসলামপুরা ওয়ার্ডের বরকতপুরা এলাকায় রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এই তল্লাশি চালানো হয়। গভীর রাতে মসজিদে পুলিশের এমন তল্লাশিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, এর আগে মসজিদটিতে এ ধরনের তল্লাশি তারা দেখেননি।
তল্লাশির কারণ কিংবা পুলিশ সেখানে ঠিক কী খুঁজছিল—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। হিন্দুত্ববাদী পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযানটিকে রুটিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এই তল্লাশি চালানো হয় মসজিদ আহলে সুন্নত খানকাহ বরকতিয়া নকশবন্দিয়া-য়। নকশবন্দি ত্বরিকার বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সৈয়দ আবু মোহাম্মদ বরকত আলী শাহ মসজিদ ও খানকাহটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১০৩ বছর আগে স্থাপিত এই মসজিদ ও খানকাহ স্থানীয় মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
মসজিদের মুসল্লি জামিল আহমেদ আবদুল গফ্ফার জানান, গভীর রাতে কয়েকটি পুলিশ টিম মসজিদে প্রবেশ করে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করে। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তা ও নির্দেশনায় মসজিদের বিভিন্ন অংশে তারা তল্লাশি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ সদস্যরা মসজিদের বিভিন্ন অংশ টোকা দিয়ে এবং নিজেদের পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখেছে।
জামিল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের এই তৎপরতায় মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবাক হয়েছেন। তার দাবি, মসজিদ কিংবা এর আশপাশের বাড়িগুলো থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ, সন্দেহজনক বা আপত্তিকর বস্তু পাওয়া যায় নি।
তদন্তকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেন গভীর রাতে এই অভিযান চালানো হলো এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও এটিএসের দল মসজিদটিতে তল্লাশি চালাল—তা জানতে চাইছেন বাসিন্দারা।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2mn8wnhm


