
দক্ষিণ সোমালিয়ার নিম্ন শাবেলি রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আশ-শাবাব যোদ্ধাদের সাথে মোগাদিশু ও উগান্ডান যৌথ বাহিনীর তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধগুলোতে আশ-শাবাবের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণে শত্রু সামরিক ইউনিটগুলো জান্নালে, মুবারক এবং সীল-ওয়ারীগোয়ে সামরিক ঘাঁটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
নিম্ন শাবেলি রাজ্যের আউদাগলী জেলাকে ঘিরে থাকা কৌশলগত শহরগুলোতে গত ১৪ আগস্ট এই পৃথক সংঘর্ষগুলো ঘটেছে। এর মধ্যে প্রথম সংঘর্ষটি ঘটে যখন মোগাদিশু এবং উগান্ডার (AUSSOM) সৈন্যদের যৌথ বাহিনী জান্নালে জেলার উপকন্ঠে শাবাব নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আগ্রসান চালানোর চেষ্টা করে। এসময় শাবাব যোদ্ধারা শহরের বাহিরে জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুহূর্তেই যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং উভয় পক্ষই পরস্পরের দিকে ব্যাপক গুলিবর্ষণের করে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আশ-শাবাবের দিকে ঝুঁকে পরে।
এই যুদ্ধে শত্রু শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং শহরের উপকণ্ঠ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রাথমিক পরিসংখ্যানে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আক্রমণে শত্রুশিবিরে কমপক্ষে ৬ উগান্ডান সৈন্য ও ৪ মোগাদিশু সৈন্য নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিন দ্বিতীয় যুদ্ধটি সংঘটিত হয় যখন মোগাদিশু এবং উগান্ডান যৌথ বাহিনী আউদাগলী জেলার অন্তর্গত কৌশলগত মুবারক শহরের উপকণ্ঠে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। আশ-শাবাব যোদ্ধারা বিভিন্ন দিক থেকে শহরের উপকণ্ঠে অগ্রসরমান শত্রুর যৌথ সামরিক ইউনিটকে টার্গেট করতে থাকেন; শত্রুর বিরুদ্ধে তারা তীব্র লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। এই লড়াইয় শত্রু বাহিনী ফের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ভারী ও হালকা অস্ত্রের তীব্র আক্রমণের সম্মুখীন হয়।
শাবাব যোদ্ধাদের তীব্র এই আক্রমণের মুখে শত্রুর সামরিক জোট যুদ্ধে পরাজিত হয় এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধে ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণে শত্রু বাহিনীর ১ অফিসারসহ অন্তত ৮ সৈন্য নিহত হয়েছে। সেই সাথে যুদ্ধে আরও ৪ সৈন্য আহত হয়েছে। আর যুদ্ধ শেষে প্রতিরোধ যোদ্ধারা একাধিক পিকেএম, আরপিজি, একে-৪৭ এবং সৈন্যদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত আইকম (ICOM) গনিমত হিসাবে অর্জন করেন।
শহরের উপকণ্ঠে মোগাদিশু বাহিনী সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সাথেও আশ-শাবাবের একটি ভারী যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এই যুদ্ধেও শাবাব যোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণে শত্রু মিলিশিয়ারা পরাজিত হয় এবং ২ মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয়। এই যুদ্ধের পর প্রতিরোধ যোদ্ধারা একটি বিকেএম এবং একটি একে-৪৭ নামক দুটি রাইফেল দিয়ে মিলিশিয়া বাহিনীর উপর গুলি চালান।
এদিন চতুর্থ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে আউদাগলী জেলার সীল-ওয়ারীগোয়ে এলাকায়। মোগাদিশু বাহিনী এবং তাদের মিত্র উগান্ডান বাহিনী এলাকাটিতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আশ-শাবাব যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোদের মুখে পড়ে, যা পরবর্তীতে কয়েক ঘন্টার একটি দীর্ঘ যুদ্ধে রূপ নেয়। এই যুদ্ধেও প্রতিরোধ যোদ্ধারা শত্রু বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন এবং তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেন। সংঘর্ষের সময় শাবাব যোদ্ধারা ভারী এবং হালকা অস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে বহু সংখ্যক শত্রু সৈন্য হতাহত হয় এবং শত্রু ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়ে।
উল্লেখ্য যে, নিম্ন শাবেলি রাজ্যটি আশ-শাবাবের সাথে মোগাদিশু বাহিনীর লড়াইয়ের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর একটি। মোগাদিশু বাহিনী এবং উগান্ডান (AUSSOM) সৈন্যরা অঞ্চলটির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে শাবাবের বিরুদ্ধে অপারেশন চালায়। এর মধ্যে জান্নালে, আউধীগলে এবং মুবারকের অবস্থান অন্তর্ভুক্ত। ফলে এই শহরগুলো বর্তমানে আশ-শাবাবের সামরিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে।
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/2fnnyc5w


