চাল বিতরণ শেষেও চাল পাননি অনেক ভিজিএফ কার্ডধারী, চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ

0
170

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভিজিএফের অবশিষ্ট চাল বিতরণ শেষ করার পর ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন দুস্থরা। পুলিশি পাহারায় ইউএনওর উপস্থিতিতে শনিবার দুপুরে এ চাল বিতরণ করা হয়। ঘটনাটি তদন্তে ইউএনও চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।

এর আগে গত বুধবার ভিজিএফের চাল বিতরণকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করায় দুই কার্ডধারীকে মারধর করার অভিযোগ ছিল গ্রাম পুলিশ সদস্য লেবু মিয়াসহ ওই ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়নে বরাদ্দ পাওয়া ৬ হাজার ৩২৩টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে ৫ হাজার ৪৯৫ কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করা হয়। বাকি ৮২৮ কার্ডের চাল শনিবার বিতরণ করা হলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বেলা ১১টার মধ্যে অন্তত তিন হাজার মানুষ উপস্থিত হন। অবস্থা বেগতিক বুঝে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ চৌধুরী বেলা একটার দিকে চাল বিতরণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে ইউএনওকে তা জানান। কিন্তু ইউএনও নাহিদ তামান্না চাল বিতরণ করার নির্দেশনা দিয়ে তাৎক্ষণিক নিজেই ওই ইউপি কার্যালয়ে পুলিশসহ যান। এরপর ইউএনও-পুলিশের উপস্থিতিতে বেলা দুইটার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান অবশিষ্ট ৮২৮ কার্ডের চাল বিতরণ দেড় ঘণ্টায় শেষ করেন। কিন্তু তখনো চাল না পাওয়া হাজারো মানুষের হাতে ভিজিএফের কার্ড ছিল। এ সময় দুস্থরা চাল না পেয়ে কার্ড হাতে সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ চৌধুরীকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে ইউএনওর কাছে শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলার মন্থনা বালাপাড়া গ্রামের দুস্থ লিলি বেগম (৪৫) ইউএনওকে অভিযোগ করে বলেন, ‘কার্ড হাতোত নিয়া তিন দিন থাকি ঘোরোছি স্যার। তা-ও চাউল পাইনো না। এই চাউল পাইলে ছিন্নির (ঈদ) দিন ছইল-পইল (সন্তানদের) নিয়া খাবার পাইনো হয়।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ চৌধুরী বলে, কিছু ভিজিএফ কার্ড ‘ডুপ্লিকেট করে’ ইউপি সদস্যরা বিতরণ করেছে। এ কারণে বরাদ্দ পাওয়া সব কার্ডের চাল বিতরণ করার পরও হাজার দু-এক মানুষের হাতে কার্ড রয়ে গেছে। কার্ড কিংবা চাল বিতরণে সে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করেনি। কমিটি তদন্ত করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানায় চেয়ারম্যান।

থানা-পুলিশ জানায়, গত বুধবার ভিজিএফের ওই চাল বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় দুই কার্ডধারী মিলন চন্দ্র রায় ও যামিনী রায় মারধরের শিকার হন।


তথ্যসূত্র:
১. গঙ্গাচড়ায় পুলিশি পাহারায় চাল বিতরণ শেষে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে দুস্থদের বিক্ষোভ
https://tinyurl.com/4575kcfy

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধফিলিস্তিনের জিহাদ || আপডেট – ১৭ জুন, ২০২৪
পরবর্তী নিবন্ধহামলা চালিয়ে গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করা হয়েছে