
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জামকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক অপতৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটনে দাখিল করা একটি লবিং নথির মাধ্যমে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন মহলের কাছে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় ওয়াশিংটনে দাখিল করা একটি লবিং নথিতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছে, যেন আফগানিস্তানে অবশিষ্ট মার্কিন সামরিক অস্ত্র উদ্ধার বা নিষ্ক্রিয় করতে ইসলামাবাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হয়। নথিতে ব্যবহৃত ভাষা ও বয়ান স্পষ্টভাবে ২০০১ সালের পরবর্তী সময়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে পাকিস্তান নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অগ্রসারির মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।
সেই সময়ে এই ভূমিকাকে সামনে রেখে ইসলামাবাদ বিপুল পরিমাণ সামরিক ও আর্থিক সহায়তা লাভ করলেও এর মানবিক ও রাজনৈতিক মূল্য বহন করতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আফগানিস্তানে পরিত্যক্ত অস্ত্রের বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে একটি জরুরি নিরাপত্তা সংকট হিসেবে তুলে ধরছে। এর মাধ্যমে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আবারও নিরাপত্তা সহযোগিতার দ্বার খুলতে চাইছে—যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা বিনিময়, সামরিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও নিরাপত্তা সংকটের মূল কারণগুলো স্বীকার ও সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তান সেগুলোকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে চাইছে। ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যাগুলো আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা, যার উৎস নাকি আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানকে দোষারোপ করে আবারও বিদেশি সমর্থন ও সুবিধা আদায়ের এই প্রচেষ্টা আঞ্চলিক বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। পাকিস্তানের নিজ ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর এই কৌশল আর কতদিন তারা প্রয়োগ করবে তা পাকিস্তানের জনগণের ধৈর্যসীমার উপর নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র:
https://tinyurl.com/yc7za54e


