সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পতিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এই বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনর) এর প্রধান। তিনি বলেন, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির ফলেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনর) এর প্রধান ফিলিপ্পে লাজ্জারানি জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর ‘আয়রন ওয়াল’ অপারেশন শুরুর মাত্র এক বছরের মধ্যেই জোরপূর্বক ৩৩,০০০ হাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিকে উত্তর শরণার্থী শিবির ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ক্যাম্পের এক অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে সেখানে পুনরায় শরণার্থীদের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর দখলের জন্য নিজেদের অপরাধের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। সেখানে তারা জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের বসতি গুড়িয়ে দেওয়া, তাদের বাস্তু-চ্যুতকরণ ও অবৈধ বসতি স্থাপন বৃদ্ধি করেছে।
গাজায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর ও পশ্চিম জেরুজালেম এলাকায় কমপক্ষে ১,১০৮ জন সাধারণ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। আর আহত হয়েছেন আরও ১১,০০০ জন ও গ্রেফতার হয়েছেন ২১,০০০ জন ফিলিস্তিনি।
এছাড়াও গত শুক্রবার দখলদার ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরের একটি মসজিদ গুড়িয়ে দিয়েছে। নাবালুসের খির বেত তানায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই মসজিদটির নাম বেইত আল শাইখ মসজিদ।
ইসরায়েলের পিস নাউ এর মতে, ৫০,০০০ এর বেশি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসবাস করছে। এছাড়াও পশ্চিম জেরুজালেমে অবৈধভাবে বসবাস করছে ২৫০,০০০ দখলদার ইসরায়েলি।
তথ্যসূত্র:
1. West Bank facing worst humanitarian crisis since 1967 amid Israeli operations in refugee camps: UN refugee agency
– https://tinyurl.com/3tumccyc


