
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি মাদরাসা ভবনের পুরোটাই খালে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ওই মাদরাসায় অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দৈনিক আমার দেশের বরাতে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের জামতলী বাজারের পূর্ব পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর লন্ডনপ্রবাসী নিজাম উদ্দীন ২০২৩ সালে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি টিনশেড পাকা ভবন তৈরি করে। সেখানে তিনি ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মহিলা মাদরাসা স্থাপন করেন। শতাধিক শিক্ষার্থী ওই মাদরাসায় পড়ালেখা করে আসছিল।
কোনো ধরনের নির্দেশনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই এলজিইডির অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স মাদরাসা-সংলগ্ন স্থানে গভীরভাবে খনন করে পুরাতন কালভার্ট ভাঙার কাজ শুরু করে। এ সময় মাদরাসা ভবনের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পুরাতন কালভার্ট ভাঙায় বাধা দিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কাজী বেলাল কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের গাফিলতিতে পুরাতন কালভার্ট খননযন্ত্র দিয়ে ভাঙার সময় পুরো মাদরাসা ভবনটির চারপাশের দেয়লে ভাঙনসহ মেঝেতে মারাত্মক ফাটল দেখা দেয়।
মাদরাসা সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বারবার বলার পরও ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে ভেকু মেশিন দিয়ে পুরাতন কালভার্ট অপসারণ করতে গিয়ে পুরো মাদরাসা ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী করে ফেলে। এ সময় মাদরাসায় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত অবস্থায় ছিল।
আতঙ্কিত শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে যায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে বারবার ঠিকাদারকে বলার পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় থানায় অভিযোগসহ ভবন মালিক ব্রিটিশ হাইকমিশনে অভিযোগ করেছেন।
মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা নুর হোসেন বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি ও কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই এ ধরনের কাজ করায় পুরো মাদরাসা ভবন ধসে পড়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাদরাসা ভবন নির্মাণে পুরো ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। ভবনটি ধসে যাওয়ার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা একটি মসজিদে শিক্ষাগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
১। রামগঞ্জে ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধসে গেছে মাদরাসা ভবন
– https://tinyurl.com/3t5ynft9


