
উত্তর প্রদেশের আগ্রায় তাজগঞ্জ এলাকায় ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক মুসলিম তরুণকে হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। হেনস্থার এই দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণকে তার নাম ও ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে একটি সরু গলিতে তাকে লাঞ্চিত করা হচ্ছিল। ভুক্তভোগী ছেলেটির নাম আনাস। সে কামালখান এলাকার বাসিন্দা। গত ২০ জানুয়ারি ছেলেটি তার নানীর বাড়ি যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে।
এক ভিডিও বার্তায় আনাস জানায়, “আমি আমার নানীর বাড়ির কাছে মোমো খেতে তাজগঞ্জে গিয়েছিলাম। এক ব্যক্তি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলো। মুসলিম নাম জানতে পেরে সে জিজ্ঞাসা করলো, তুমি কি মুসলিম? এরপরই সে আমাকে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করল।”
অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদীর নাম সন্তোষ। ঘটনার সময় সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্তোষ বারবার আনাসকে আঘাত করছিল, আর গলির অন্য শিশুরা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল।
ভুক্তভোগী আনাস এই সহিংসতায় আহত হয়েছে। সে এখনও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে তার স্বজনেরা। আনাসের মামা ফারদিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নে কোনও ভুল করেনি। সে শুধুমাত্র গলি দিয়ে যাচ্ছিল। ধর্মের কারণেই তাকে এমন হেনস্থা করা হয়েছে। যা স্পষ্টত নিন্দনীয়।
তিনি আরও জানান, আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতি প্রথমদিকে নিষ্পত্তি হয়েছিল, কিন্তু সন্তোষ ফিরে এসে আমাকেও আক্রমণ করে। সিসিটিভিতে এই দৃশ্যও উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত সন্তোষকে গ্রেপ্তার করেছে তাজগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেনস্থা করার বিষয়টি পুলিশ অস্বীকার করেছে। পুলিশের এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, ভিডিওতে ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন স্পষ্টভাবে শোনা গেছে ও দেখা গেছে। এই ঘটনা স্পষ্টভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে হয়েছে।
স্থানীয় এক এক্টিভিস্ট বলেন, যখন কোন শিশুকে তার ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর আক্রমণ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পর সাথে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রতি দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5n93rtsn


