
ইমারাতে ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আফগান জনগণের বহুদিন ধরে বঞ্চিত মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। দখল হয়ে যাওয়া জমি, ঘরবাড়ি ও সম্পদ প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা দীর্ঘদিন নিপীড়িত মানুষের জন্য আস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এই সামগ্রিক সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নারীদের বৈধ অধিকার সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পূর্ববর্তী সময়গুলোতে নারীর অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য থাকলেও বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় বহু নারী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, জোরপূর্বক বিবাহে বাধ্য হয়েছেন এবং অন্যায়ভাবে বন্দি অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন। সামাজিক বাস্তবতায় তাদের মর্যাদা ও ধর্মীয় অধিকার প্রায় সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে ইমারাতে ইসলামিয়া স্পষ্ট করেছে যে প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থায় নারীর যে অধিকার নির্ধারিত রয়েছে, তা কোনো অবস্থাতেই লঙ্ঘনযোগ্য নয়। এই অবস্থান কেবল বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে, যা ইসলামি শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণারও সুস্পষ্ট জবাব।
নারীর অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইমারাতে ইসলামিয়ার সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বহির্বিশ্বে এই মন্ত্রণালয়কে ঘিরে নানা ভুল ধারণা থাকলেও বাস্তবে এটি নারীদের অধিকার পুনরুদ্ধারে কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
এর সাম্প্রতিক উদাহরণ নুরিস্তান প্রদেশে নারীদের ওপর কঠোর শ্রম আরোপ নিষিদ্ধ করে জারি করা নির্দেশনা। আমিরুল মুমিনিনের নির্দেশে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত ইসলামি শরিয়াহর আলোকে প্রণীত, যার লক্ষ্য নারীদের শারীরিক সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও নৈতিক অবস্থান রক্ষা করা। পূর্বে যেখানে নারীরা কঠিন পরিবেশে শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য কাজে বাধ্য হতেন, সেখানে এখন তারা আইনগত সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।
এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারীদের এমন কোনো কাজে নিয়োজিত করা যাবে না যা তাদের মর্যাদার পরিপন্থী অথবা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ইমারাতে ইসলামিয়ার সামগ্রিক কর্মসূচিরই অংশ, যা দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই ধরনের পদক্ষেপ প্রতীকী ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি কার্যকর ন্যায়বিচারের প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের নিপীড়ন থেকে মুক্ত হয়ে নারীরা এখন এমন এক সামাজিক ব্যবস্থার অংশ, যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা ধর্মীয় নীতির আলোকে সংরক্ষিত। নারীর অধিকার রক্ষায় এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ইমারাতে ইসলামিয়ার সুস্পষ্ট অবস্থান ও বাস্তব অভিজ্ঞতারই প্রমাণ।
তথ্যসূত্র:
1.Ensuring the Dignity of Women: A Commitment Under the Islamic System
– https://tinyurl.com/8jde38uj


