
২০১৯ সালের আগস্টে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে দখলদার ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও নৃশংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১ ফেব্রুয়ারি এই সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের গবেষণা বিভাগ। উক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত ২২ জন নারী ও ৪৫ জন শিশুসহ ১০৫০ জন কাশ্মীরি মুসলিম দখলদার ভারতীয় বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন।
দখলদার ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী, রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, উক্ত সময়ের মধ্যে দখলদার বাহিনীর কাস্টোডি ও ভুয়া এনকাউন্টারে শহীদ হয়েছেন ২৮৭ জন কাশ্মীরি। সৈয়দ আলী গিলানি, মুহাম্মদ আশরাফ সেহরাই, আলতাফ আহমেদ শাহ ও গোলাম মুহাম্মদসহ কাশ্মীরি স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দের অনেকেই ভারতীয় বাহিনীর কাস্টোডিতে শহীদ হয়েছেন।
আগস্ট, ২০১৯ এর পর থেকে দখলদারিত্ব বিরোধী বিভিন্ন বিক্ষোভে ভারতীয় বাহিনীর দমনপীড়নে ২৬৬০ জন কাশ্মীরি আহত হয়েছেন। এছাড়া কাশ্মীরি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হুরিয়তের নেতৃবৃন্দ, এক্টিভিস্ট, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আলেম এবং মানবাধিকার কর্মীসহ আরও ৩৩,১৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ যুবকদের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইন (পিএসএ) এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১৬৮টি আবাসিক বাড়িঘর এবং অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করেছে দখলদার ভারতীয় বাহিনী। এছাড়া ১৩৯ জন নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে কাশ্মীরি নাগরিক হত্যার রেকর্ড পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কাশ্মীরি মুসলমানদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
কেবল গত জানুয়ারি মাসে ২ কাশ্মীরি শহীদ ও ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দখলদার ভারত। এছাড়া এক ডজনেরও অধিক কাশ্মীরি মুসলমানদের জমি, বাড়িঘরসহ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে দখলদার নয়াদিল্লি প্রশাসন। এছাড়া এই সময়ে কাশ্মীর বিরোধী নীতির অংশ হিসেবে ৬ কাশ্মীরি মুসলিম কর্মীকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নয়াদিল্লির নিযুক্ত লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে এই সকল কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।
হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকার কর্তৃক জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে উক্ত অঞ্চলে হত্যা, বিচারবহির্ভূত মৃত্যুদণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন, ধ্বংস ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/44a895s9


