
সম্প্রতি আফগানিস্তানের নতুন আইনকে কেন্দ্র করে “হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ” — এমন শিরোনামে একটি বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন গণমাধ্যম Dhaka Post, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট আইনের মূল দলিল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উক্ত শিরোনাম বাস্তব আইনের ভাষা বা বিধানের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং এটি একটি অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন, যা ইমারাতে ইসলামিয়ার নতুন আইনের সুস্পষ্ট অপব্যাখ্যা এবং ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রশাসন আদালতের বিচারব্যবস্থা পরিচালনার জন্য Criminal Procedure Regulation for Courts নামে একটি ফৌজদারি কার্যবিধি জারি করে। আইনটি বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ, আদালতের এখতিয়ার এবং শাস্তি নির্ধারণের নীতিমালা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়।
নারীদেরকে শাস্তি দেয়া নয়, বরং ইমারাতে ইসলামিয়ার নতুন জারিকৃত আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্যাতিত নারীর অভিভাবক পুরুষদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় এনে আফগান সমাজে লাগামহীন নারী নির্যাতনের মুখে বাঁধ দেয়া। অথচ,ইসলামবিদ্বেষী পত্রিকা Dhakapost.com এই নিউজকে অপব্যাখ্যা করে সুস্পষ্টভাবে ইসলাম ও ইসলামী শরিয়াহ’র বিরোধিতাতে লিপ্ত হয়েছে।
মূল জারিকৃত আইনের কোথাও “স্ত্রীকে মারধর বৈধ” কিংবা “হাড় না ভাঙা পর্যন্ত সহিংসতা অনুমোদিত”—এমন কোনো বাক্য, ধারা বা নির্দেশনা পাওয়া যায় না। বরং আইনটিতে শরিয়াহভিত্তিক বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাজির বা সংশোধনমূলক শাস্তির ধারণা উল্লেখ রয়েছে, যা আদালতের বিবেচনাধীন শাস্তি ব্যবস্থার একটি ঐতিহ্যগত আইনি পরিভাষা।
কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে গুরুতর শারীরিক আঘাত প্রমাণের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কয়েকটি গণমাধ্যম সেই বিশ্লেষণকে সরলীকৃত ও চটকদার শিরোনামে রূপ দেয়। Dhaka Post সেই ব্যাখ্যাকে যাচাই ছাড়া সরাসরি সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে, ফলে পাঠকদের সামনে একটি বিকৃত ধারণা তৈরি হয়।
গণমাধ্যম নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো দেশের আইন সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মূল আইনি দলিল, সরকারি বক্তব্য এবং স্বতন্ত্র বিশ্লেষণ—সবকিছু যাচাই করা আবশ্যক। কিন্তু আলোচিত প্রতিবেদনে আইনের প্রকৃত কাঠামো বা উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা না করে একটি বিতর্কিত অপব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্য যাচাই, প্রেক্ষাপট উপস্থাপন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। যাচাইবিহীন বা অতিরঞ্জিত শিরোনাম শুধু পাঠককে বিভ্রান্তই করে না, বরং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তথ্যসূত্র:
1.اصول نامه جزایی محاکم طالبان
– https://tinyurl.com/er3j75ju


