কি অদ্ভূত আনন্দ! প্রথম আলোর আনন্দের বলি আরেক আবরার!

0
527

হিন্দুত্ববাদী ভারতের দালালদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া আবরার ফাহাদকে এখনো ভুলতে পারেনি দেশের মানুষ, এরই মধ্যে হত্যা করা হলো আরেক আবরারকে! প্রথম আলো নামক যে পত্রিকাটি আপনাদের হৃদয়ে আনন্দানুভূতি জাগায়, তাদের কিশোর আলোর কিআনন্দ অনুষ্ঠানেই নাইমুল আবরার রাহাত নামে এক কিশোরের জীবন প্রদীপ নিভে তার পরিবারে বেদনার ঝড় উঠেছে।
গতকাল ১লা নভেম্বর শুক্রবারে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আলোর সহযোগি কিশোর আলোর ‘কিআনন্দ’ অনুষ্ঠান। যেখানে কিশোরদের মাঝে আলো ছড়ানোর নামে নাচ-গানসহ নানা প্রকারের অশ্লীলতার আয়োজন করা হয়, আনন্দের নামে চলে অবাধ মেলামেশা, গানবাজনা আর নাচানাচির শিক্ষা। আর, সেই অনুষ্ঠানেই গতকাল এক কিশোরের জীবন গেল, মাটি হয়ে গেল তার পরিবারের আনন্দ! ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত কিশোর আলোর আয়োজিত কিআনন্দ অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে।
বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেলে এটাকে প্রথমে হত্যা কেন বললাম? মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে। আসলে, হত্যা যে কেবল মেরে-কেটেই করতে হবে এমনটা নয়, অনেকভাবেই হত্যা করা যায়। আর, প্রথম আলোর মত চেতনাসন্ত্রাসীরা সেই ভিন্ন পথ অবলম্বন করেই এই ছোট ছেলেটিকে হত্যা করেছে। ‘কিআনন্দে’র নামে একটি পরিবারে বেদনার ঝড় বইয়েছে।
জানা যায়, কিশোর আলোর ‘কিআনন্দ’ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রোটোকল মানা হয়নি, লাইভ ইলেকট্রিক তার ছড়ানো ছিল। এমনি একটি তার থেকে শক লাগে নাইমুল আবরারের। তারপর, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়ানো নাইমুল আবরারকে নিয়ে ছেলেখেলায় মাতে প্রথম আলোর স্বার্থপর চেতনাসন্ত্রাসীরা। তারা বিদ্যুতায়িত নাইমুল আবরারকে কাছের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কিংবা অন্য কোন হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে, তাদেরকে স্পন্সর করা মানুষের লাশ নিয়ে ব্যবসাকারী আরেক পিশাচ প্রকৃতির হাসপাতাল মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে (পূর্ব নাম ছিল আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) নিয়ে যায়!
এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে আছে অনেক অভিযোগ। গত ২১শে জুন এই হাসপাতালটিতে শহীদুল ইসলাম নামে কিডনির সমস্যাজনিত একজন রোগী মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু হাসপাতালের নরপিশাচ কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে কিছু না জানিয়ে তার লাশ নিয়ে ব্যবসার শুরু করে, ঔষধের নামে টাকা ইনকাম করতে থাকে। পরে, ঘটনাটি জানতে পেরে হাসপাতালে ভাঙ্গচুর চালিয়েছিলেন রোগীর পরিবারের লোকজন।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হাসপাতালটির চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী নামের এক হিন্দু, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দিলীপ কুমার পাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার বৈদ্যনাথ সাহা ও হেড অব একাউন্টস আনন্দ কুমার সাহা! এসকল হিন্দুদের কাছে একজন মুসলিমের কী মূল্য আছে!? শহীদুল ইসলামের লাশ নিয়ে ব্যবসা করে তারা তো সেটার প্রমাণই দিয়েছে যে, তাদের কাছে মুসলিমদের জীবনের কোন মূল্য নেই ! আর, প্রথম আলোর মত চেতনাসন্ত্রাসীরাও তাদেরকে অর্থ দিয়েছে বলে এ হাসপাতালেই নিয়ে গেছে মুমূর্ষু নাইমুল আবরারকে।
কেবল নিজেদের স্বার্থের জন্য মুমূর্ষু ছেলেটিকে দূরের মহাখালীর ঐ হাসপাতালে পাঠিয়েছে তারা। আর, মাঝপথেই মারা যায় ছেলেটি। ৩টায় সে বিদ্যুতায়িত হলেও বিকেল ৫টায় তার লাশ মিলে হিন্দু পরিচালিত ঐ লাশ ব্যবসায়ী হাসপাতালে। এভাবেই, প্রথম আলোর চেতনাসন্ত্রাসীরা আপন স্বার্থোদ্ধারে এক কিশোরকে নিরবে হত্যা করে।
আবার, সুশীলতার মুখোশধারী প্রথম আলোর নরপিশাচদের হিংস্র চেহারা নাইমুল আবরারের মৃত্যুর সময় পরিলক্ষিত হয়েছে। কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে নাইমুল আবরার বিদ্যুতায়িত হলেও, কাউকে বিষয়টি না জানিয়ে গোপনে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়, ভলান্টিয়ারদেরকে এ ঘটনা চেপে যেতে বলা হয়, যেন মিডিয়াতেও ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ধামাচাপা দেওয়া যায়।
কেউ একজন কিআনন্দ এর ফেসবুক ইভেন্ট পেইজে এ ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন। বাকস্বাধীনতার দাবিদার প্রথম আলো তখন তাদের সেই ‘বাকস্বাধীনতা’ চর্চা করেছে! তারা নগদে পোস্টটা ডিলিট করে দিয়েছে! কেন? এটাই বাকস্বাধীনতা! নাকি সত্যকে চাপিয়ে রাখার চেষ্টা? তারা আপ্রাণ চেষ্টা করা যাচ্ছে যেন এই ঘটনা নিয়ে কোন আওয়াজ না উঠে! শাপলা চত্বরে মুসলিমদের বুকে যখন তাগুত বাহিনী গুলি চালিয়েছিলো, ভোলায় যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানের দাবিতে মুমিনের খুনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিলো, তখনও তারা একই নীতি অবলম্বন করেছে। সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আসলে, এদের কাছে মুসলিমদের রক্তের কোন মূল্য নেই।
এই লোকগুলো একটা মুসলিম ছেলের মৃত্যুকে এতটাই গুরুত্বহীন ভেবেছে যে, তাদের ‘কিআনন্দ’ অনুষ্ঠানটিও পর্যন্ত বন্ধ করেনি। একটা ছেলের জীবন যখন আশংকাজনক, তখনও তারা চালিয়ে গেছে ‘কিআনন্দ’! এদের অন্তরে কি বিন্দু পরিমাণও মানবিকতাবোধ আছে? মানবতার এই ধ্বজাধারীরা একটা ছেলের জীবনকে নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করতে পারলো!? ছেলেটিকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেরা আনন্দে মেতে থাকতে পারলো?! নাচ-গান, অশ্লীলতা চালিয়ে গেলো? তারা আসলে কিশোরদের মাঝে কীসের প্রসার করতে চাচ্ছে? কী শিক্ষা দিতে চাচ্ছে?
ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননা, ইসলাম ও মুজাহিদীনকে নিয়ে মিথ্যাচার থেকে শুরু করে মুসলিমদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা- সবই তো দেখিয়েছে প্রথম আলোর এই চেতনাসন্ত্রাসীরা! মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কোন আবেদনকেও যারা সহ্য করতে পারে না, তাদের কাছে থাকবে মুসলিমদের জীবনের মূল্য? না, মুসলিমদের জীবনের কোন মূল্য এদের কাছে নেই। ইসলামের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধও এদের নেই।
বরং, তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঝড়যন্ত্রে লিপ্ত। মুক্তচর্চার নামে মুসলিম সন্তানদের মনে নাস্তিকতার বীজ বপনের চেষ্টা করছে। কিশোর আলো, অধুনা, বিনোদন, বন্ধুসভা ইত্যাদির মাধ্যমে তারা মুসলিম সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটাচ্ছে। আর, এরই ফলাফল হিসেবে চট্টগ্রামের মত বিভিন্ন জায়গায় ডার্ক সেক্স রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠছে। গর্ভপাত, যিনার প্রসার ঘটছে। তারা কিশোর-কিশোরীদের মাঝে আলো ছড়ানোর নামে, বিনোদনের নামে যৌনতা, অশ্লীলতার শিক্ষা, ইসলামবিদ্বেষী চিন্তাধারা বপন করে। আমাদের ছেলেমেয়েদের আমরা কাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে রেখেছি? ওদের কথা অনুসরণ করে দেশ কোথায় যাচ্ছে? আত্মসম্মানবোধ আছে এমন বাবা-মা কি এদেশে নেই? নিজের সন্তানকে ডার্ক সেক্স রেস্টুরেন্টে দেখতে চান না, এমন কি কেউ নেই? প্রথম আলোর মুখোশধারী সুশীলরা তো আপনার সন্তানকে সেই পথেই ডেকে নিয়ে যাচ্ছে! জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, মতিউর রহমানরা তো আপনার সন্তানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে!

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন