ছাত্র নেতা শারজিল ইমামকে গুলি করে মারতে চায় গেরুয়া শিবির!

0
525

ইনসাফের জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন দিল্লির জওহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়- জেএনইউয়ের সাবেক ছাত্র শারজিল ইমাম। ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে আয়োজিত শাহিনবাগ প্রতিবাদ মঞ্চে অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়– দেশের মানুষের সর্বনাশের কথা ভেবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ওই ডাকে সাড়া দিয়েছেন বহু মানুষ। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে শাহিনবাগের প্রতিবাদ মঞ্চ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। এখন গোটা ভারত যেন শাহিনবাগ। স্বাধীনতার পর এমন প্রতিবাদ দেখেনি গোটা ভারত। এই প্রতিবাদে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারা। প্রতিবাদের উদ্যোক্তা শারজিল ইমামকে গত মঙ্গলবার বিহারের জেহানাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে নিয়ে আসা হবে দিল্লিতে। এরপর লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চলবে বলে জানা গিয়েছে। শারজিলের প্রথম অপরাধ তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। দ্বিতীয় অপরাধ, তার ডাকে একত্রিত হয়েছে শাহিনবাগ। প্রতিবাদের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে ভারতজুড়ে। তার তৃতীয় অপরাধ কী– তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারো।

শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একাধিক মিথ্যা মামলা। যার মধ্যে রয়েছে দেশদ্রোহও। এ ছাড়াও বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে জেএনইউয়ের এই প্রাক্তনীর বিরুদ্ধে। আশ্চর্যের বিষয় হলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর দিল্লিতে প্রচারে গিয়ে স্লোগান দেন– ‘দেশ কি গদ্দারোকো…’ উলটো দিক থেকে বিজেপির গুণ্ডারা বলে ওঠে ‘গুলি মারো শালো কো…’।  কোনো পুলিশ অনুরাগ ঠাকুরকে গ্রেফতার করেনি। এমনিভাবে, আন্দোলনকারীদের কুকুরের মত গুলি করে মারা উচিত বলেও জঘন্য মন্তব্য করছে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা।

বিজেপি নেতাদের এধরণের হাজার আপত্তিকর মন্তব্যের পরও সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী তাদের কেশাগ্র পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি।

এদিকে, গেরুয়া শিবির হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ  প্রচারের নামে এখন পুরোদস্তুর হিংসার ভাষায় কথা বলছে। বিজেপি-সঙ্গ ছাড়লেও শিবসেনা গেরুয়াই রয়েছে বলে উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছে কিছু দিন আগে। কিছুদিন আগে তাঁর দল শাহিন বাগ আন্দোলনের অন্যতম নেতা শারজিলের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শারজিলকে গুলি করে মারার ডাক দিলেছে বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম। ২০১৩-র মুজফ্ফরনগরে ২০১৩-র হিংসার ঘটনায় একধিক বার নাম জড়িয়েছে এই বিধায়কের। সে শারজিল প্রসঙ্গে বলেছে, ‘‘যারা ভারত ভাঙার কথা বলে, তাদের প্রকাশ্যে গুলি করা উচিত।’’

গত শনিবার দিল্লিতে নির্বাচনী প্রচারণায় এসে যোগী বলেকে, ‘কেউ যদি যুক্তি শুনতে না চায় তাহলে বুলেট দিয়েই তাকে বোঝাতে হবে।’

এই জাতীয় প্ররোচনার ফল কী হতে পারে,  তা দেখেছে দিল্লি। শাহিন বাগের অদূরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এক হিন্দু সন্ত্রাসী যুবক প্রকাশ্যে, এমনকি ফেসবুক লাইভে এসে, গুলি চালিয়েছে ‘এই নে আজাদি’ বলে।

এমনিভাবে, আরেক হিন্দু সন্ত্রাসী শাহিনবাগে ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকালে ‘আমাদের দেশে কেবল হিন্দুরাই থাকবে।’ বলে গুলি চালিয়েছে।

সূত্র: পূবের কলম/ আনন্দ বাজার

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন