দৌলতপুরে ভুয়া তালিকা করে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ

0
736
দৌলতপুরে ভুয়া তালিকা করে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি ভুয়া তালিকা করে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের ত্রাণ বঞ্চিত দিনমজুর, দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তি ও ওয়ার্ড মেম্বররা এ অভিযোগ করেছেন।

বিডি প্রতিদিন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগে তারা বলেছেন, সরকারি ত্রাণ বিতরণে ওয়ার্ড মেম্বরদের মাধ্যমে তালিকা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চৌকিদারদের দিয়ে ওইসব দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু তা করা হচ্ছে না।

চেয়ারম্যানরা প্রতিটি ওয়ার্ডে তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নামে তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করছেন যেখানে মেম্বরদের কোন তালিকা নেওয়া হচ্ছে না এবং তাদেরকে ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে কিছু জানানো হচ্ছে না। আবার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০ জন দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিকে ত্রাণ দেওয়ার কথা থাকলেও কোন কোন ক্ষেত্রে ৩০ জন বা ২৫ জনকে দেওয়া হচ্ছে। বাকি ত্রাণ কোথায় কিভাবে দেওয়া হচ্ছে তাও জানানো হচ্ছে না।

উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর ২ নং ওয়ার্ডের বৈরাগীরচর এলাকায় তার নিকট আত্মীয় আপন ভাগ্নি ও মামাত ভাই জহুরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হবি, আব্দুর রাজ্জাক ও রিপনসহ ৫০ জনের মাঝে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ইউপি সদস্যের তালিকার কাউকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়নি বলে ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন।

একই অভিযোগ ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহআলম মেম্বারের। তিনিও অভিযোগ করেন তার ওয়ার্ডেও চেয়ারম্যান শাহ আলমগীরের নিজস্ব আত্মীয় স্বজন ও তার পছন্দের লোকদের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। আমার তালিকার কাউকে এ ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়নি।

আড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হোসেন আলী অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান সাইদ আনছারী বিপ্লব ৬ নং ওয়ার্ডে তার পছন্দ অনুযায়ী তালিকা করে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের অনেকেরই তালিকার নামের সাথে মিল নেই। এ বিষয়ে আড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদ আনছারী বিপ্লব বলেন, ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হোসেন ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয় সভায় কোনদিন আসেন না। কোন খোঁজখবরও রাখেন না। তাই ৬ নং ওয়ার্ড আমার নিজেরও ওয়ার্ড হওয়ায় ওই ওয়ার্ডে কারা দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তি তাদের আমি চিনি ও জানি। সে অনুযায়ী তালিকা করে প্রাপ্য ব্যক্তিদের মাঝেই ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি।

প্রাগপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামের হতদরিদ্র সাহিদা খাতুন ও ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, ত্রাণের তালিকায় তাদের নাম থাকা সত্তে¡ও আসলাম মেম্বর তাদেরকে ত্রাণ দেয়নি। এছাড়াও ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর জয়পুর গ্রামের আনারুল ইসলাম, ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মহিষকুন্ডি গ্রামের আলাউদ্দিনসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন তাদের ওয়ার্ডে ৫০ জনের পরিবর্তে ২৫ জনের তালিকা করে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একই অভিযোগ রয়েছে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বরদের।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন