উদাসিনতায় ঝুলে আছে মানবপাচারের ছয় হাজার মামলা

0
223

দুর্বল তদন্ত ও আদালতে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। আইনে জামিন অযোগ্য হলেও উচ্চ আদালত থেকে অধিকাংশ আসামিই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত আট বছরে ৬ হাজার ১৩৪টি মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৩৩টি। দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৯০১টি মামলা। আদালতে সময়মতো আসামি ও সাক্ষী হাজির করতে না পারায় শুনানি করা যাচ্ছে না এসব মামলা। ফলে বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রম ঝুলে আছে বছরের পর বছর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ২০০২ সালের একটি মামলায় এবং তেজগাঁও থানায় ২০০৫ সালের একটি মামলায় কমপক্ষে অর্ধশতবার হাজিরার তারিখ পড়লেও পুলিশ সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। এতে ভুক্তভোগীরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মানবপাচার-সংক্রান্ত মামলাগুলো গতানুগতিকভাবেই তদন্ত করা এবং মামলার বাদী ও সাক্ষী দুর্বল থাকায় পাচারের শিকার মানুষ সুবিচার পায় না। ফলে প্রভাবশালী আসামিরা খালাস পেয়ে যায় এবং ফের মানবপাচারে যুক্ত হয়। ২০১২ সালের ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে’ সংঘবদ্ধভাবে মানবপাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে। তথ্য মতে, আইনটি হওয়ার পর গত আট বছরে দেশে ৬ হাজার ১৩৪টি মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন আদালতে ২৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৯০১টি মামলা। এরমধ্যে ৩৩টি মামলায় ৫৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরের মরুভ‚মিতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মারাত্মক আহত হন আরো ১১ জন।শুধু এ ঘটনাই নয়, বিদেশে ভাগ্য বদলাতে গিয়ে পাচারকারীদের হাতে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন অগণিত মানুষ। পাচারকারীদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। এসব ঘটনায় বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার বিভিন্ন সময় মামলা করলেও সুবিচার পাচ্ছেন না। দ্রুত পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোরের কাগজ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন