মাদরাসার ৮ জানালা ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করল সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ!

0
1272
মাদরাসার ৮ জানালা ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করল সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ!

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার প্রত্যন্ত কাসেমাবাদ গ্রামে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি মাদরাসা ভবনের ৮টি জানালা ইটের গাঁথুনির মাধ্যমে জোড়পূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী সেলিম আকন। মাদরাসা ভবনটির ৩টি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে এখন ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি মিলন খলিফার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা ২০১৪ সালে ওই গ্রামের আকন বাড়ি জামে মসজিদের নিজস্ব ভূমির ওপর তাদের নিজেদের অর্থায়নে একটি টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে দক্ষিণ কাছেমাবাদ এবতেদায়ি মাদরাসা গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষায় মাদরাসাটি বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। ভালো ঘরের অভাবে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বেশ ব্যাঘাত হচ্ছিলো।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ওই এবতেদায়ি মাদরাসাটির জন্য একটি পাকা ভবন নির্মাণ করতে সরকারি অনুদান প্রদান করেন। এরপর সরকারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালুকদার এন্টারপ্রাইজকে দিয়ে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি টিনশেড (সেমিপাকা) ভবনের লিনটেন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু করে। ওই স্থানে মাদরাসা ভবন নির্মিত হলে রাস্তা থেকে নিজের পাকা বাসভবন দেখা যাবে না এমন অজুহাত তুলে মাদরাসা ভবনের পেছনের বাসিন্দা ওই বাড়ির মৃত জয়নাল আকনের ছেলে সেলিম আকন মাদরাসা ভবনটির নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। তার বাধা উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ চালিয়ে নেয়ে এবং ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্প কাজ সমাপ্ত করে চলে যায়। এরপর গত প্রায় দেড় বছর ওই অবস্থায় পড়ে থাকে লিনটেন পর্যন্ত নির্মিত হওয়া ভবনটি।

একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগী হয়ে তাদের নিজস্ব আর্থিক সহয়তায় ১ জুন ভবনটিতে টিনের ছাউনি দেওয়ার কাজ শুরু করে। এবারও একই অজুহাত তুলে সেলিম আকন ওই টিনের ছাউনি দেওয়ার কাজে বাধা দেয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে সেলিম আকনকে জুতাপেটা করে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের একপর্যায়ে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার মীমাংসা করা হয়।

১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সেলিম আকন তার বাড়ির নারীদের পর্দা করায় ব্যাঘাত ঘটার নতুন অজুহাত তুলে রাজমিস্ত্রি এবং লেবার নিয়ে ওই মাদরাসা ভবনটির পেছন দিকের ৮টি জানালাকে ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করে দেয়।

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. মনির হোসেন আকন বলেন, সেলিম আকন এবতেদায়ি মাদরাসাটিকে বন্ধ ও উচ্ছেদ করতে চায়। এ কারণে সে একের পর এক নানা অজুহাত তুলে মাদরাসাটিতে সুশিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। যাতে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে শিক্ষার্থীরা সবাই মাদরাসা ছেড়ে চলে যায়।

অভিযোগের ব্যাপারে সেলিম আকন জানান, তার পরিবারের পর্দা সমস্যার কথা গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন খলিফাকে জানালে সে তাকে মাদরাসা ভবনের পেছন দিকের জানালাগুলো বন্ধ করে দিতে বলেন। গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন খলিফা বলেন, সেলিম আকনকে অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সে আমার সহযোগিতা চাইতে বাসায় এসেছিলো। আমি তাকে বলেছি, এখানে আমার কিছু বলার নেই। সে আমার নাম বিক্রি করে এসব করেছে।
সূত্র: কালের কন্ঠ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তার!
পরবর্তী নিবন্ধফটো রিপোর্ট | প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ তালিবান নিয়ন্ত্রিত ময়দান ওয়ার্দাক প্রদেশ