কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল হিন্দু প্রভাবশালীদের

0
276
কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল হিন্দু প্রভাবশালীদের

রংপুরের মিঠাপুকুরে শঠিবাড়ী হাটের কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখলেও উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কেউ। অনেকটা দেখেও না দেখার ভান করেছে উপজেলা প্রশাসন। একারণে অবশিষ্ট হাটের জমিটুকুও ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শঠিবাড়ী গরুর হাটের মোট সম্পত্তি ৮৪ শতক। এর মধ্যে ৪৫৫ দাগে ৫৪ শতক, ৪৫৬ দাগে ৬ শতক ও ৪৭৪ দাগে ২৪ শতক জমি রয়েছে। প্রায় শত বছর ধরে ওই সম্পত্তিতে হাট বসছে নিয়মিত। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ধীরে ধীরে হাটের সম্পত্তিটুকু বেদখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এতে হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শঠিবাড়ী গরুর হাটের ৪৫৫ ও ৪৫৬ দাগের পশ্চিম অংশে বেদখল করে হলুদ ভাঙানোর মিল, ওয়ার্ক শপ ও বারান্দা বসিয়েছে। বৌদ্ধনাথ বাবুর গেট হতে পূব পার্শ পর্যন্ত মিষ্টির কারখানা দিয়েছেন দেবাশীস ঘোষ ও সুধাংশু বাবু এবং ঘর ও বারান্দা তুলেছেন গোবিন্দ বাবু। এছাড়াও মৃত আব্দুর রহমান মাস্টার এবং সাহের মিয়ার বাড়ি ও গালামালের দোকান বসিয়ে বেদখল করা হয়েছে। ৪৭৪ দাগের দক্ষিণে পাঁচটি দোকানঘর বসিয়েছেন কানাই চন্দ্র, নিমাই চন্দ্র, সন্তোষ কুমার, আব্দুল হাকিম ও পরিতোষ। দীর্ঘদিন ধরে বেদখল থাকলেও এই হাটে রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।

শঠিবাড়ীতে প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার বসে গরুর হাট। কিন্তু বেদখল হওয়ার ফলে হাটে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। গরুর হাটের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, হাটের দিনে হাজার হাজার গরু কেনাবেচা হয় এই হাটে। অথচ বেদখল হওয়ার ফলে হাটে গরু-ছাগল রাখার জায়গা হচ্ছে না। আরেক ব্যবসায়ী আল-আমিন মিয়া বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল হাটের কোটি টাকার মূল্যের সম্পত্তি বেদখল করার ফলে চরম ভোগান্তিতে আছি আমরা। বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের অনুরোধ করেছেন তিনি। সরকারি সম্পত্তি দখলদার কানাই চন্দ্র ও নিমাই বাবু বলেন, এগুলো সরকারি সম্পত্তি, আমরা দোকানঘর তুলে ব্যবসা করছি। সরকার চাইলে জায়গা ছেড়ে দেব। কালের কন্ঠ

শঠিবাড়ী হাট ইজারাদার নুরুল ইসলাম প্রামাণিক লালন বলেন, গরুর হাটের ৮৪ শতক সম্পত্তির মধ্যে বর্তমানে প্রায় অর্ধেকটা বেদখলে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভির সামাল দেওয়া কষ্টকর। এখানকার বেদখল হওয়া পুরো সম্পত্তিটি উদ্ধার হলে হাটে পর্যাপ্ত জায়গা হবে। সংশ্লিষ্ট দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদার বলেন, কিছু মানুষ সরকারি সম্পত্তি বে-দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছেন। এগুলো উচ্ছেদ না করলে হাটের পর্যন্ত জায়গা পাওয়া যাবে। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূইয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন