মাজলুমের দু’আ তুচ্ছজ্ঞান করিস না, হে জালিম

1
1579
মাজলুমের দু’আ তুচ্ছজ্ঞান করিস না, হে জালিম

মাজলুমের দু’আ তুচ্ছজ্ঞান করিস না, হে জালিম
______

হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর সূত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘পাঁচটি দু’আ রয়েছে, যেগুলো আল্লাহর দরবারে কবুল হয়- ১. মজলুমের দু’আ, যে পর্যন্ত না সে প্রতিশোধ গ্রহণ করে ২. হজ্জে যাওয়া ব্যক্তির দু’আ, যে পর্যন্ত না সে বাড়িতে ফিরে আসে ৩. আল্লাহর পথের মুজাহিদের দু’আ, যে পর্যন্ত না সে জিহাদ থেকে বসে পড়ে ৪. অসুস্থ ব্যক্তির দু’আ, যে পর্যন্ত না সে সেরে ওঠে ৫. কোনো মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে অন্য মুসলিম ভাইয়ের দু’আ।’ তারপর তিনি বললেন, ‘এগুলোর মধ্যে আবার সবচেয়ে দ্রুত কবুল হয় কোনো মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে করা দোয়াটি।’ (1)

হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে এসেছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের দু’আ কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না- ১. ইফতারের সময় রোযাদারের দু’আ ২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু’আ ৩. মজলুমের দু’আ। মাজলুম ব্যক্তির দু’আ আল্লাহ মেঘমালার ওপর উঠিয়ে নেন এবং এজন্য আসমানের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করবো, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়।” (2)

সুতরাং হে জালিম, মাজলুমের দোয়াকে তুচ্ছজ্ঞান করিস না। জুলুমের কালো ধোঁয়ায় আজ তোরা পৃথিবীকে ঢেকে ফেলেছিস। ছেলেহারা মায়ের আর্তনাদে, স্বামীহারা স্ত্রীর গোঙানির আওয়াজে, পিতৃহারা শিশুর তীব্র চিৎকারে আজ আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে গিয়েছে। সিরিয়ার শিশুরা আজ ঈদের খুশিতে নতুন জামা খোঁজে না, কাশ্মীরের শিশুরা আজ বিকেলে মাঠে খেলতে যায় না, রোহিঙ্গা শিশুরা আজ স্কুল চিনে না। নববধূ আজ মেহেদির রঙে হাত রাঙায় না, হাত রাঙায় স্বামীর তাজা রক্তে। বৃদ্ধ মা আজ পিঠা বানিয়ে ছেলের জন্য অপেক্ষা করে না, অপেক্ষা করে ছেলের নিথর দেহের জন্য; শেষ বারের মতন খোকার মুখটুকু একবার দেখার জন্য। বাবা আজ সন্তানের খেলনা কিনতে বাজারে যায় না, গোরস্থানে যায় সন্তানের জন্য কবর খুঁড়তে।

হে জালিম, জুলুম থামা। মাজলুমের দু’আকে ভয় কর। তোদের দম্ভ গুড়িয়ে যেতে কেবল ‘কুন’ শব্দই যথেষ্ট। এবার তোদের রক্তপিপাসা দমা। নতুবা অপেক্ষা কর আসমানী শাস্তির। নতুবা অপেক্ষা কর লাঞ্চনার জীবনের।

হে মুসলিম যুবাদল, ঘুম ভেঙে জেগে ওঠো। সুপ্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলো। তোমার কানে কি পৌঁছোয় না ধর্ষিতা বোনের চিৎকার? তোমার চোখে কি পড়ে না মাসুম শিশুর ছিন্নভিন্ন দেহ? তোমার অন্তরে কি আঘাত করে না ছেলেহারা মায়ের আর্তনাদ? এবার ওঠো। হাতে নাও খালিদের তলোয়ার। আঘাত করো ওদের ঘাড়ে, দেহের প্রতিটি জোড়ায় জোড়ায়। আল্লাহর এ ঘোষণা মনে রেখো –

قَاتِلُوۡہُمۡ یُعَذِّبۡہُمُ اللّٰہُ بِاَیۡدِیۡکُمۡ وَ یُخۡزِہِمۡ وَ یَنۡصُرۡکُمۡ عَلَیۡہِمۡ وَ یَشۡفِ صُدُوۡرَ قَوۡمٍ مُّؤۡمِنِیۡنَ-

’তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, আর তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করবেন এবং মু’মিনের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত ও ঠাণ্ডা করবেন।’ (3)

ভয় পেও না ওদেরকে। মনে রেখো, তোমরাই বিজয়ী হবে৷ আল্লাহই তোমাদের বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন –

وَ لَا تَہِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَ اَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ –

’আর তোমরা নিরাশ হয়োনা ও বিষন্ন হয়োনা এবং যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে।’ (4)

সুতরাং হিযবুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও, হে যুবাদল। লড়ে যাও আল্লাহর পথে। তাদের ডাকে সাড়া দাও, যারা চিৎকার করে আল্লাহকে বলছে –

رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا مِنۡ ہٰذِہِ الۡقَرۡیَۃِ الظَّالِمِ اَہۡلُہَا ۚ وَ اجۡعَلۡ لَّنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ وَلِیًّا ۚۙ وَّ اجۡعَلۡ لَّنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ نَصِیۡرًا-

‘হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে অত্যাচারীর এই নগর থেকে নিষ্কিৃতি দিন এবং স্বীয় সন্নিধান থেকে আমাদের পৃষ্ঠপোষক ও আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী প্রেরণ করুন।’ (5)

তথ্যসূত্র:
[ 1. বায়হাকি
2. জামেউত তিরমিজি
3. সুরা তাওবাহ : ১৪
4. সুরা আলে ইমরান : ১৩৯
5. সূরা নিসা : ৭৫ ]

আবদুল্লাহ আবু উসামা

১টি মন্তব্য

  1. السلام عليكم ورحمةالله
    আল্লাহ তোমি আমাদেরকে দুনিয়াতে ওআখেরাতে তোমার প্রিয় বান্দাদের দলে সামিল করেনাও৷ বাংলাদেশ হতে আফগানিস্তানে হিজরত করার তাওফিক দান কর৷আমিন আমিন আমিন আমিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন