যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ‘মার্কিনী সন্ত্রাস’

1
375
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ‘মার্কিনী সন্ত্রাস’

১৯৯০ সালের পর থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হামলা রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত এফবিআইএর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
২০১৪ সালের পর থেকেই জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, গোত্রকে কেন্দ্র করে এই ধরনের হামলা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ২০১৯ সালে মার্কিনী অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের শিকার হয়ে দেশটিতে ৫১জন প্রাণ হারায়, যা ২০১৮ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।
ক্যালিফোর্নিয়ার হেইট অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম স্টাডি সেন্টারের পরিচালক ব্রায়ান লেভিন।সে বলছে, জাতি-বর্ণগত বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি নতুন এক নৃশংস পরিস্থিতির পটভূমি তৈরি করেছে।
গত আগস্টে টেক্সাসের এলপাসের ওয়ালমার্টে মেক্সিকানদের উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় ২২জন প্রাণ হারায়। এফবিআইএর বার্ষিক ‘হেট ক্রাইম স্ট্যাটিসটিক অ্যাক্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৭ হাজার ৩১৪টি হামলা হয়েছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৭ হাজার ১২০। ধর্মভিত্তিক ঘৃণাত্মক হামলা ৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ঘৃণাত্মক হামলার শিকার হচ্ছে কৃষ্ণাঙ্গরা।
লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনের সভাপতি ডমিঙ্গো গার্সিয়া বলেছে, এফবিআইএর প্রতিবেদনে স্পষ্ট ল্যাটিনো, কৃষ্ণাঙ্গ, আরব, মুসলিম সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিয়ত হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

এফবিআই জাতি-ধর্মগত বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংজ্ঞা দেয় এভাবে: “যে অপরাধের পেছনে বর্ণ, জাতি, ধর্ম, পূর্বপুরুষের ইতিহাস, যৌন দৃষ্টিভঙ্গি, শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা, এবং লিঙ্গের প্রতি বৈষম্য প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।”
এফবিআইয়ের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যাচ্ছে, ধর্মীয় কারণে অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে শতকরা সাত ভাগ।
অন্যদিকে, শুধুমাত্র ইহুদি এবং ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অপরাধ বেড়েছে ১৪%। লাতিনদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে অপরাধ ঘটেছে ৫২৭টি। এর আগের বছরের তুলনায় এটি ৮.৭% বেশি। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি। তাদের ওপর হামলার সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ১,৯৪৩।
এফবিআইয়ের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতি-ধর্মগত বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্য আরও বিস্তারিতভাবে সংগ্রহের তাগিদ দিয়েছে বলে বিবিসির সূত্রে জানা যায়।
এসব রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হওয়া যায় যে, বিশ্বসন্ত্রাসী মার্কিনীরা সারাবিশ্বে সন্ত্রাস করার পর এবার নিজ দেশেও সন্ত্রাস শুরু করছে। এই অসভ্য, বর্বর জাতিই সমগ্র বিশ্বে অশান্তি সৃষ্টিতে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে, এখন তাদের দেশ আমেরিকায়ও নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো সভ্যতা পতনের আগে যেসব আলামত দেখা যায়, তার সবগুলোই এখন পাশ্চাত্য সভ্যতায় বিদ্যমান। নৈতিক অবক্ষয়, অবাধে যৌনাচার, লুটপাট, ভাঙচুর, মারামারি, ইলেকশন নিয়ে সংঘর্ষ, জ্বালাও পোড়াও সবকিছুই হচ্ছে। পাশ্চাত্য সভ্যতার ধ্বজাধারী আমেরিকার শান্তি নষ্ট হয়ে গেছে । আমেরিকা যে আগুন মুসলিম ভূখণ্ডসহ সমগ্র ভূখণ্ডে জ্বালিয়ে ছিল সে আগুনই বুমেরাং হয়ে আমেরিকাকে পোড়াচ্ছে ।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন