করোনার বছরেও নারী নির্যাতন দ্বিগুনের চেয়ে বেশি, ধর্ষণ ১৩৪৬টি

0
332
করোনার বছরেও নারী নির্যাতন দ্বিগুনের চেয়ে বেশি, ধর্ষণ ১৩৪৬টি

২০২০ সালে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এই করোনার বছরেও গত বছরের তুলনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

পুরো বছরে দেশে ১৩৪৬ কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৩৪৪০ জন নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যেখানে ২০১৯ সালে দেশে একহাজার ৩৭০টি ধর্ষণ, ২৩৭টি গণধর্ষণসহ এক হাজার হাজার ৬২২টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিলো।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের এই তালিকা করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত বার্তায় এসব জানানো হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে সংস্থাটি জানায়, ২০২০ সালের মোট ৩৪৪০ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭৪ জন ধর্ষণ, ২৩৬ জন গণধর্ষণ ও ৩৩ জন ধর্ষণের পর হত্যা ও ৩ জন ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যাসহ মোট ১৩৪৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এছাড়া ২০০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে ৪৩ জন। ৭৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এসিড দগ্ধের শিকার হয়েছে ২৫ জন, এর মধ্যে এসিড দগ্ধের কারণে মৃত্যু ৪ জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে ২৯ জন, তার মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে ৫৯ জন। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১২৫ জন। পাচারের শিকার হয়েছে ১০১ জন তন্মধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি ৪ জন।

বিভিন্ন কারণে ৪৬৮ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও ৩৫ জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। যৌতুকের কারণে নির্যাতন হয়েছে ১১৭ জন, তন্মধ্যে ৫২ জন যৌতুকের কারণে হত্যা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫৯ জন।

বিভিন্ন নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ১৬৪ জন। ২৫২ জন নারী ও কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ১১৭টি। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম অপরাধের শিকার হয়েছেন ৪৩ জন নারী।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন