ভিক্টোরিয়াস ফোর্স: ইসলামি ইমারাহর সামরিক সক্ষমতার একটি দৃষ্টান্ত

1
1642
ভিক্টোরিয়াস ফোর্স: ইসলামি ইমারাহর সামরিক সক্ষমতার একটি দৃষ্টান্ত

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক আগ্ৰাসন শুরু হওয়ার পর ইসলামি ইমারাহকে বহুবিধ প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানীসমূহ থেকে ইসলামি ইমারাহর কৌশলগত পশ্চাদপসরণের ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শত্রুদের দখলে চলে যায়। এক পর্যায়ে বুদ্ধিজীবী, বিশ্লেষক , গবেষক এবং বিদেশি ও তাদের তাঁবেদাররা ঘোষনা করলো, ইসলামি ইমারাহর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকা হয়ে গেছে।

ইসলামি ইমারাহর কৌশলগত পশ্চাদপসরণ ও শত্রুদের প্রাথমিক সফলতার পর একেবারে ধীর গতিতে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়। আফগানিস্তানের বীর সন্তানেরা সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে মুজাহিদদের দলে যোগ দিতে শুরু করে।
সেসময় যুদ্ধাস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জামের দিক থেকে মুজাহিদদের অবস্থা ছিল একেবারে সূচনীয়। সেসময় যুদ্ধ জয়ের কল্পনা করা ছিল সেরেফ বাতুলতা। আগ্ৰাসী বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও বিমান বাহিনী ইত্যাদির বিপরীতে মুজাহিদদের হাতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র যা ছিল তা হচ্ছে, সোভিয়েত আমলের স্বয়ংক্রিয় কিছু অস্ত্রশস্ত্র।

সেসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষা। সমর উপকরণ ছিল সীমিত। লোকবল ছিল হাতেগোনা। স্বাধীনতার জন্য ইসলামি ইমারাহর উঁচু পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত যুদ্ধের সামনের সারিতে থেকে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।
ইসলামি ইমারাহর যুদ্ধাস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জাম যা ছিল তা তুলনামূলকভাবে না থাকারই নামান্তর। তবু তারা ধীরে চলার নীতিতে লড়াই অব্যাহত রেখে আগ্ৰাসী বাহিনীকে এমন শিক্ষা দিয়ে ছেড়েছেন, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।
ইসলামি ইমারাহর নেতৃস্থানীয়রা নিষ্ঠা, নজীরবিহীন ত্যাগ তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে একদিকে বিশ্বের এক চরম অবাধ্য জাতিকে পদদলিত করেছেন, তাদেরকে পরাজয় মেনে নিয়ে নাকে ক্ষত দিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য করেছেন; অপরদিকে ইসলামি ইমারাহ ব্যাপক সামরিক শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

সামরিক সক্ষমতার একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভিক্টোরিয়াস ফোর্স ( বিজয়ী সেনাদল)। ভিক্টোরিয়াস ফোর্স ইসলামি ইমারাহর একটি সেনাশাখা। প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনালগ্নে বাহিনীটিতে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। ছিল না নিয়মতান্ত্রিকতা। কিন্তু বর্তমানে এটি একটি সুশৃঙ্খল সেনাদল। এই বাহিনীর কাজ হচ্ছে, দেশি- বিদেশি শত্রুদের কবল থেকে সাধারণ আফগানদের জান-মাল ও ইজ্জত-আব্রু হেফাজত করা। ইসলামি ইমারাহর অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে ভিক্টোরিয়াস ফোর্স হচ্ছে একটি উদাহরণ। এই বাহিনীর রয়েছে হালকা ও ভারি অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নাইট ভিশন সরঞ্জাম, সামরিক ঘুড়ি ও মিনি ড্রোন।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, ভিক্টোরিয়াস ফোর্সের মতো দলগুলো জাতির ভবিষ্যৎ। তারা দেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষা করছে এবং গণমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
ভিক্টোরিয়াস ফোর্সের দিকে তাকালে অনুমান করা যায় যে, ইসলামি ইমারাহ দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ইসলামি সিস্টেম পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী ও সক্ষম সেনাবাহিনী গঠনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

ইসলামি ইমারাহর সেনা সদস্যদের আকিদা-বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা ও নীতি-নৈতিকতা শরীয়তের অনুগত এবং ইসলামি জ্ঞান দ্বারা সীঞ্চিত। ভিক্টোরিয়াস ফোর্সের মতো দলগুলো সর্বাবস্থায় দেশ ও জাতির পাশে থেকেছে। ভিক্টোরিয়াস ফোর্সসহ ইসলামি ইমারাহর প্রতিটি শাখা উঁচু নৈতিকতার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তারা তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে সচেতন। তারা কখনোই শত্রুদের খেলনাতে পরিণত হবে না। তারা সব সময় আফগানিস্তানের সুরক্ষায় কাজ করে যাবে।


লেখক: জামাল ইব্রাহিম

অনুবাদক: তারেক মুসান্না

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন