তালেবানের সুন্দর আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ান প্রফেসর এখন কাবুলে

উসামা মাহমুদ

2
1250

ইসলাম নিয়ে যুগে যুগে ইসলামবিদ্বেষীরা যতই প্রোপাগাণ্ডা ছড়াক, ইসলামের রীতিনীতি দেখে ও ইসলামের অনুসারীদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অসংখ্য অগণিত মানুষ। সবচেয়ে বেশি ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে তাদেরই হাতে, যারা ইসলামকে প্রকৃতভাবে নিজেদের জীবনে ফুটিয়ে তুলেছেন। যারা এক সময় ইসলামের ঘোর বিরোধী থাকতো তারাই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখে নিজেদের জীবনে ইসলামকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। তেমনি একজন ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ান প্রফেসর টিমোথি উইকস।

তালেবানের কারাগারে বন্দী থাকাকালীন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী আমিরাতের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাতৃভূমি থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের মাটিতে পা রেখেছেন। একইসাথে নতুন সরকারকে সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন টিমোথি উইকস।

গতকাল ১৩ আগস্ট শনিবার এক্সপ্রেস নিউজ জানায়, ২০১৬ সালে আফগানিস্তানে এসে এক মার্কিন সহকর্মীর সাথে তালেবান মোজাহিদিনদের হাতে আটক হন উইকস এবং তিন বছর তাদের হাতে বন্দী থাকেন। পরে তালেবান নিজেদের তিন নেতার মুক্তির বদলি হিসেবে মুক্তি দেন উইকস ও তার সহকর্মীকে। বন্দিত্বের সময়েই তালেবানের আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এই অস্ট্রেলিয়ান প্রফেসর।

মুক্তির পর যখন তিনি সিডনিতে পৌঁছান, তিনি বলেছিলেন, “তালেবানদের সাথে জিম্মি হয়ে যে সময় কাটিয়েছি তা আমার উপর গভীর এবং অকল্পনীয় প্রভাব ফেলেছে, আমি এমন আলোকিত মানুষ জীবনে কখনো দেখনি।”

তিনি গতকাল আবারও আফগানিস্তানে ফরে এসেছেন। ইসলামি ইমারতের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মোজাহিদিনদের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে নতুন সরকারকে সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ইসলাম গ্রহণের পর উইকস নিজের নতুন নাম রাখেন জিবরিল ওমর। তিনি যখন বন্দী ছিলেন তালেবান মুজাহিদিনদের হাতে তখন তার প্রহরার দায়িত্বে থাকা তালিবান মোজাহিদিনের নাম ছিল জিবরিল ওমর। তিনি এই মুজাহিদের আদর্শে এতোটাই অনুপ্রানিত হয়েছেন যে নিজের নামটিও রেখেছেন তাঁর নামানুসারে।

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নানা ক্ষেত্রে তালেবানকে সহায়তা করেছেন। কাতারে অনুষ্ঠিত তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি আলোচনায় এই নওমুসলিম তালেবান নেতাদের সাথে সেখানে সাক্ষাৎ করেন এবং গত বছরের ১৫ আগস্ট যখন তালেবান শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন তিনি নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান।

গতকাল তিনি যখন কাবুলে পা রাখেন, তখন তার চেহারা শুভ্র দাড়ি সজ্জিত দেখা যায়। তার পোশাকেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে; তিনি সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, কালো কোট এবং একটি কান্দাহারী পাগড়ি পরিধান করে বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রফেসর জিবরিল ওমর বলেন, এই ভূখণ্ডে তালেবান শাসনের বর্ষপূর্তির আনন্দ উদযাপনে আমি আফগানিস্তান এসেছি। একইসাথে আমি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাবেক এক আফগান এমপির সাথে মিলে এ দেশের সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের কাজ করছি।

ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত ধর্ম। বাতিল অপশক্তি ইসলাম নিয়ে যতই অপ্রচার করুক। আল্লাহ যাদের কপালে হেদায়েত রেখেছেন তারা অবশ্যই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করবেন।



তথসূত্র:
——–
১. তালেবানের আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ান প্রফেসর কাবুলে পৌঁছেছেন
https://tinyurl.com/mr2yyuh2

2 মন্তব্যসমূহ

  1. যুগে যুগে ইসলাম ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে, তরবারিওয়ালাদের আচরণের মধ্য দিয়েই সবচেয়ে বেশি।
    অস্ত্র হাতে থাকা সত্যেও যখন মুজাহিদগন সুন্দর আচরণ করেন তখন কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য্য মেনে না নিয়ে থাকতে পারেনা।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন