ভারতের উত্তরপ্রদেশে পুলিশের উপস্থিতিতে এক বৃদ্ধ মুসলিম চা বিক্রেতাকে হিন্দুত্ববাদীদের হেনস্থা

0
5

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক বৃদ্ধ মুসলিম চা বিক্রেতাকে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে আতঙ্কগ্রস্ত করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এ উগ্র ব্যক্তিরা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে জোরপূর্বক দোকানের ব্যানার সরিয়ে ফেলেছে।

হাথরাস গেট থানা এলাকার রুহেরি বাইপাসের নিকটে এ হেনস্থার ঘটনা ঘটে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি মুসলিম মিররের এক প্রতিবেদনে তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রবীণ বৃদ্ধ লোকটির নাম শমসের খান। তার দোকানের নাম ‘কুন্দন টি স্টল’। ‘কুন্দন’ একটি সাধারণ হিন্দি-উর্দু শব্দ যার অর্থ খাঁটি সোনা অর্থাৎ বিশুদ্ধতা অর্থ বোঝানো হয়েছে।

কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, দোকানের নামে বৃদ্ধ লোকটি নিজের মুসলিম পরিচয় গোপন করতে হিন্দুয়ানী ‘কুন্দন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। ভিডিও ফুটেজে দীপক শর্মা নামে এক উগ্রকে হিন্দুত্ববাদীকে বলতে শোনা যায়, “পিতা তোমার নাম রেখেছে শমসের, আর তুমি দোকানের নাম কুন্দন রাখবে কেন?”

ভুক্তভোগী মুসলিম তার দোকানের এই নামের পক্ষে যুক্তি দিলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করছিল। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলছিলেন, দোকানের এই নাম রেখে তিনি কোনও ভুল করেননি।

তর্কবিতর্কে একপর্যায়ে এক উগ্রবাদী দোকানের ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা বৃদ্ধের পক্ষে কোনও হস্তক্ষেপ করে নি। এর পরিবর্তে তাদেরকে হিন্দুত্ববাদী দলের লোকদের সাথে কথোপকথন করতে দেখা গেছে, এছাড়া এই ঘটনার ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেন, দীর্ঘদিন ধরে চা দোকানটির মাধ্যমে সামান্য কিছু জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এই বৃদ্ধ মুসলিম, কিন্তু অপ্রীতিকর ঘটনাটির কারণে তাকে আতঙ্কিত ও বিমর্ষ দেখা যাচ্ছিল।

স্থানীয়রা জোর দিয়ে বলেন, ‘কুন্দন’ শব্দটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি শব্দ, এটি নির্দিষ্ট কোনও ধর্মের জন্য খাস নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “কুন্দন” এর মতো নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুসলিমদেরকে বাধা দেওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।

ঘটনাস্থলে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ভিডিও রেকর্ড বন্ধ করার অপচেষ্টা সমালোচকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রাক্তন এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ কর্মীদের উচিত ছিল শান্তি বজায় রাখা এবং ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা করা।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, জীবিকার ছোটখাটো বিষয়াদিও এখন হেনস্থার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে উগ্রবাদীরা।

এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, নাম, পরিচয় কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রেও ক্ষুদ্র মুসলিম ব্যবসায়ীরা এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/34rmn85x

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধআশ-শাবাবের বিজয় অভিযান রুখতে সোমালিয়ায় তুর্কি ট্যাঙ্ক
পরবর্তী নিবন্ধবরিশালে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত বিএনপি কর্মী