আফগানিস্তান ও মধ্য এশীয় দেশগুলোর মধ্যকার আঞ্চলিক সংহতি বিশ্বের জন্য একটি মডেল হতে পারে

0
0

৫ এপ্রিল মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে পরামর্শমূলক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভী আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ।

সংলাপের ১ম দফা অনুষ্ঠিত হয় কাবুলে। এতে উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত বৈঠক আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মৌলভী আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার, নতুন সুযোগ চিহ্নিতকরণ এবং অর্থনীতিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এই বৈঠক আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতামূলক ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সংহতির ক্ষেত্রে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বে একটি সফল মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

বিগত সময়ে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত ৫ বছরে মধ্য-এশিয়ার দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও ট্রানজিট সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান। আঞ্চলিক প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন ইমারাতে ইসলামিয়ার অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া তিনি আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।

সীমান্ত অঞ্চল ও আমু নদীর পানির বন্টন সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের যৌথ ব্যবস্থাপনায় সম্পাদনের ব্যাপারে তিনি মতামত জানান।

ইমারাতে ইসলামিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগকে কাজে লাগানো এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক, বাণিজ্য, ট্রানজিট, নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রনীতি পুনরায় স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের পররাষ্ট্রনীতি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থনীতিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পরিচালিত। এই সরকার ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, প্রতিবেশিসুলভ সুসম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার উপর জোর দেয়।

বৈঠকে তিনি সম্প্রতি চীনের উরুমকিতে পাকিস্তানের সাথে সমঝোতা বৈঠকে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার অধিকার বজায় রেখেই সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হবে ইমারাতে ইসলামিয়া। এরজন্য তিনি সংলাপ কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানের লক্ষ্য হল তার ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগানো, এর মাধ্যমে মধ্য এশিয়াকে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার সাথে সংযুক্ত করতে সহায়তা করা।

আফগানিস্তান ও মধ্য-এশিয়ার দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই ধরনের পরামর্শমূলক বৈঠক ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের প্রতি তিনি প্রস্তাব পেশ করেন।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/4d63jjjy

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারায়ণগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ