
গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যার মধ্যেই দেশটির অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দখলদার ইসরায়েলের এই অস্ত্রবাণিজ্যের বড় অংশের ক্রেতা হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো ও বাহরাইন ইসরায়েলের কাছ থেকে মোট ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এসব দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলি অস্ত্র ও প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
গাজার বাস্তবতার সামনে এই সামরিক সহযোগিতা গভীর নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং গাজায় গণহত্যাকারী ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর একাংশ উল্টো অস্ত্র কেনা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘের কমিশন ২০২৫ সালে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ২০২৬ সালের জুনেও জানায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
আইআইএসএসের তথ্য বলছে, আমিরাত ইসরায়েলের কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, চালকবিহীন আকাশযান, বৈদ্যুতিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, রাডার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমিরাতের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিক সহযোগিতাও গভীর হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরছে। এমন সময়ে মুসলিম দেশগুলোর ইসরায়েলের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো গভীর নিন্দা ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে সময়ে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন বন্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার কথা, সে সময়ে তার অস্ত্র কেনা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর এই প্রবণতা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির দাবিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন জবাবদিহি ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি জোরালো, তখন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উচিত ছিল সামরিক সম্পর্ক জোরদার নয়, বরং তা পুনর্বিবেচনা করা। কারণ ইসরায়েলের অস্ত্রশিল্পের এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পেছনে যে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্থ ও সামরিক সহযোগিতা রয়েছে, সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির কথা বলা কার্যত পরস্পরবিরোধী অবস্থান তৈরি করে।
তথ্যসূত্র
1. The defence dividend of the Abraham Accords
– https://tinyurl.com/4zx6rmjw


