
ভারত অধিকৃত জম্মুর রহিম নগর এলাকায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসতি ধ্বংস করে দিয়েছে দখলদার ভারত প্রশাসন। এ ঘটনায় প্রায় এক ডজন পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
দখলদার কর্তৃপক্ষের দাবি, বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে এই বসতি গড়ে তুলেছিল রোহিঙ্গারা। তাই পুলিশ, বন বিভাগ ও রাজস্ব বিভাগের যৌথ পদক্ষেপে বসতিটি উচ্ছেদ করা হয়। ৪ অক্টোবর কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়।
জম্মুতে গত এক মাসে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় বড় উচ্ছেদ অভিযান। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জম্মুর কারিয়ানি তালাব এলাকায় রোহিঙ্গা বসতি উচ্ছেদ করেছিল দখলদার প্রশাসন। অভিযোগ ওঠেছে, উচ্ছেদের পর এলাকাটির জমি বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন ভোরে তাদের এলাকায় পৌঁছে। ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে খুব কম সময় দেওয়া হয়েছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা জানান, উচ্ছেদের পূর্বে তাকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তিনি এলাকাটিতে বসবাস করে আসছিলেন।
মিয়ানমারে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছিলেন এই রোহিঙ্গা মুসলমানরা।
আবদুল খালিক নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা নিজ দেশে নিপীড়ন থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছি, আর এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আমরা এখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আসিনি। আমাদের কাছে জাতিসংঘের দেওয়া পরিচয়পত্র রয়েছে।”
উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অনুভবের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আমাদের এখন বিকল্প কোনও আশ্রয় নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আমরা অনিশ্চিত।”
রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পরিচয়পত্র রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাগুলোকে আমেরিকার মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের স্বার্থ উদ্ধারের ক্রীড়ানড়ক হিসেবেই অধিক সক্রিয় বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৭ হাজার ৬৫৬ জন রোহিঙ্গা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জম্মু অঞ্চলে ৬ হাজার ৭৩৭ জন এবং কাশ্মীর উপত্যকায় রয়েছেন ৯১৯ জন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/ym3xh3kr

