মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ইসরায়েলে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলে বাড়তি মার্কিন সেনা ও বিমান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ওয়ালার প্রতিবেদনে বেনামি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে থাকা মার্কিন সেনারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা, পাইলট ও সহায়তা দল হিসেবে দায়িত্ব পালন, রসদ সরবরাহ এবং সামরিক সদর দপ্তরের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। নতুন করে সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর এই প্রস্তুতিকে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের বিস্তারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমন্বয়কে নিছক নিয়মিত সেনা আবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক শক্তি জড়ো করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের তথ্যও উঠে এসেছে। এ ধরনের সামরিক সমাবেশ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়ালা জানিয়েছে, আঞ্চলিক প্রতিপক্ষরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় ইসরায়েল মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয়ও অব্যাহত রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, সামরিক অভিযান ও হামলার কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গাজায় সন্ত্রাসী ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং ইয়েমেনকেন্দ্রিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে ইসরায়েলে মার্কিন সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশেষ করে যুদ্ধ ও সংঘাতের এই বাস্তবতায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ, যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ইসরায়েলে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি সেই সামরিকীকরণকেই আরও জোরদার করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও গভীর হচ্ছে।
ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি দেশের নিয়মিত সেনা মোতায়েনের বিষয় নয়; এটি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যে একাধিক সংঘাতের চাপে রয়েছে। ফলে এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধি শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নতুন সংঘাতের পথ আরও প্রশস্ত করবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র
1.US preparing to send additional troops, aircraft to Israel: Report
– https://tinyurl.com/bdfv9kez


