কাশ্মীরের বিজবেহারা হত্যাকাণ্ডের ৩৩ বছর: এখনও বিচার পাননি নিহতদের পরিবার

0
3

২০২৬ সালের ২২ অক্টোবরে (বৃহস্পতিবার) জম্মু-কাশ্মীরের বিজবেহারা হত্যাকাণ্ডের ৩৩ তম বছর গত হয়েছে। ১৯৯৩ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ৫০ জনের বেশি বেসামরিক মুসলমান নিহত হন। নিহতদের অধিকাংশ ছিলেন তরুণ-শিক্ষার্থী। ৩৩ বছর পার হলেও স্বজনদের বিচার পাওয়ার অপেক্ষা প্রহর এখনও শেষ হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর কথিত সশস্ত্র কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শ্রীনগরের হজরতবল মাজারে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি তুলে ভারত সরকার। এই অজুহাতে হজরতবল মাজার অবরোধ করে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা। ফলে সেখানে সাধারণ মুসলমানরা আটকা পড়ে যায়।

ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রভৃতি কারণে বিএসএফের অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আরম্ভ করে কাশ্মীরি মুসলমানরা।

কিন্তু ২২ অক্টোবর বিএসএফের ৭৪তম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিজবেহারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ২০০ জন।

নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন আফরোজ আহমদ জারগার (১২), শেখ শাবির আহমদ (১৭), শাবির আহমদ শাহ (১৮), মুখতার আহমেদ গনাই (১৮), মুহাম্মদ ইকবাল গনাই (১৭), রিয়াজ আহমেদ গাতু (১৫), মুস্তাক আহমেদ গনাই (১৮), মুহাম্মদ শফি ওয়াগে (১৮), মুহাম্মদ আশরাফ জারগার (১৪), আলতাফ হুসাইন শেখ (১৫), আবদুল রশিদ বৈদ (১৭), জাভেদ আহমদ ওয়াজা (১৮) প্রমুখ।

আফরোজ আহমদ জারগার ছিলেন নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থী। তিনি তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন।

নিহতদের অনেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু বিজবেহারার হত্যাকাণ্ডে তাদের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থী চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন।

১৭ বছর বয়সী আরশিদ হুসাইন তাকও চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে তিনি একটি গণউদ্যানের দেয়ালে নিজের নাম খোদাই করেছিলেন। কিন্তু আরশিদের শেষ ঠিকানা হয় তার প্রিয় সেই উদ্যান। নিহত হওয়ার পর ওই উদ্যানকে শহীদদের কবরস্থানে রূপান্তর করা হয়।

কয়েক বছর পর আরশিদের বাবাকেও হত্যা করা হয়। তিনি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট মিলিশিয়া সদস্যরা তাকে হত্যা করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিজবেহারার ঘটনাস্থলকে ‘কসাইখানা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারী, পুরুষ ও শিশুদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিজবেহারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবরণ অনুযায়ী, বিএসএফ শ্রীনগর-জম্মু মহাসড়কের একটি সংকীর্ণ অংশ অবরুদ্ধ করে। এরপর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। গুলিবর্ষণ শুরুর আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। প্রায় ১০ মিনিট ধরে গুলিবর্ষণ চলে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, ওই দিন অন্তত ৫১ জন নিহত হন। আহত হন ২০০ জনের বেশি। নিহতদের অধিকাংশ ছিলেন শিক্ষার্থী ও কিশোর।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, ঘটনার পর ভারত সরকার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তথ্য সংগ্রহে বাধা দিয়েছিল।

কাশ্মীরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

বিজবেহারা হত্যাকাণ্ড কাশ্মীরের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। তবে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে একই ধরনের আরও অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালের জানুয়ারি থেকে ভারতীয় বাহিনীর হাতে ৯৬ হাজার ৫১৪ জন কাশ্মীরি নিহত হয়েছেন।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/54d3vdua

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধআফগানিস্তানের বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন অগ্রগতি, খাফ–হেরাত রেলপথে তুরস্কে ৬০০ টন তুলা রপ্তানি
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিম তীরে ২ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে শহীদ করল সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বাহিনী