
ভারতে উত্তর প্রদেশের সিতাপুর জেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ১৬ বছরের এক মুসলিম বালিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) জেলার সাহরোই গ্রামের কাছে একটি কবরস্থানের নিকটে গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সূত্রমতে, ১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) কোতওয়ালি দেহাত থানার আওতাধীন সাহরোই গ্রামে নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হয় এই বালিকা। পরিবারের তথ্যানুযায়ী, আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে বালিকাটি ঘর থেকে বের হয়েছিল, এরপর আর ফিরে আসেনি। উদ্বিগ্ন পরিবার ওই দিন এবং তার পরের দিন থানায় বিষয়টি অবগত করে। কিন্তু কোনও নিখোঁজের মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।
এরপর ১৪ আগস্ট বালিকাটির মরদেহ উদ্ধার করা হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্ছল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।
প্রাথমিক অভিযোগে একই গ্রামের ৩ যুবক- মোহাম্মদ ইলিয়াস, রহিম এবং সালমান- এর নাম সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগী বালিকাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে তাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ অভিযুক্তকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
অবশ্য এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নিখোঁজের দিনেই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু নিখোঁজের ৩ দিন পর্যন্ত পুলিশ কোনও এফআইআর দায়ের করেনি।
ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ অভিযোগ করেছে, তার দলের কর্মীরা পুলিশের ওপর চাপ দেওয়ার পরই শেষ পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত করেছিল পুলিশ। এফআইআর নথিভুক্তের দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফলস্বরূপ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তেজ বাহাদুর সিংকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টেশন হাউজ অফিসার অমর সিংয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চন্দ্রশেখর আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেছে, “এটি কোনও ১৬ বছরের মেয়ের মরদেহ নয়- বরং গাছে ঝুলেছে উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা।” সে পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3226j9ue


