
ভারতে উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে শামশের আলি (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ মুসলিমকে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট করে নিহত করেছে হিন্দুরা। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন মুসলমান আহত হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট হায়দরগড়ের সুবেহা থানার কোলওয়া গ্রামের পুরে গুমান মাজরে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের ছেলে মুশতাক আলির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয় আদালত মুসলিমদের পক্ষে রায় দেয়। এরপর ওই জমিতে বীজ বপন করে মুসলিমরা। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয় অন্যায়ভাবে মালিকানা দাবিদার ঠাকুর সম্প্রদায়ভুক্ত হিন্দুরা।
মুশতাক আলি আরও বলেন, ক্ষুব্ধ হিন্দুরা লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয় মুসলিমদের ওপর হামলা চালায়। তারা ট্রাক্টর নিয়ে এসে জমিতে রোপণ করা বীজ নষ্ট করতে আরম্ভ করে। এতে স্থানীয় মুসলিমরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে কয়েকজনের ওপর ট্রাক্টর তুলে দেওয়া হয়।
মুশতাকের অভিযোগ, ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রায় ৯-১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে শামশের আলি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া আহত কয়েকজনের হাড় ভেঙেছে। তারা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকালে মুসলিম নারীদেরও গালিগালাজ ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন মুশতাক।
এ ঘটনার মামলায় রোশন ওরফে শিব সিং, গুলশন সিং, শ্যামজিৎ সিং, সূরজ সিং, পৃথ্বীরাজ সিং, বিক্রমজিৎ সিং, সন্দীপ সিং, মোহিত সিং ও কল্লু সিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনেক অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
আজাদ সমাজ পার্টির বারাবাঁকি জেলা সভাপতি সুনীল কুমার বলেছে, গ্রেপ্তারের গতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্তরা যদি কোনও মুসলিম পরিবারের সদস্য হতো, তাহলে তাদের বাড়িতে এতক্ষণে বুলডোজার চালানো হতো। অথচ এখন পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারই করতে পারছে না, ন্যায়বিচার তো পরের কথা।
আজাদ সমাজ পার্টির অপর এক নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ অভিযোগ করেছে, ঘটনাস্থলে বাধা দিতে আসা দলিত সম্প্রদায়ের কয়েকজন হিন্দুকেও মারধর করেছে অভিযুক্ত উচ্চবর্ণের ঠাকুর সম্প্রদায়ের হিন্দুরা।
মুসলিমদের বাড়িতে ট্রাক্টর হামলার চেষ্টা ও নারীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এই নেতারা।
সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3wxapxsn


