
১৯৮৯ সাল থেকে বিগত ৩৮ বছরে দখলদার ভারতীয় বাহিনীর হাতে জম্মু ও কাশ্মীরে ৯৬ হাজার ৫০০ জনের অধিক নিরীহ কাশ্মীরি শহীদ হয়েছেন। গত ২১শে আগস্ট কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের গবেষণা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার অবৈধভাবে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে তাদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক অবিচার বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট নয়াদিল্লি কর্তৃক জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর থেকে এর মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে।
‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের জানুয়ারি থেকে দখলদার ভারতীয় সৈন্যরা নারী ও শিশু-কিশোরসহ ৯৬,৫০২ জনেরও বেশি নিরীহ কাশ্মীরিকে শহীদ করেছে এবং আট হাজারের বেশি মানুষকে পুলিশ হেফাজতে গুম করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দখলদার ভারতের অব্যাহত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে ২২,৯৯৩ জনেরও বেশি নারী বিধবা এবং ১,০৮,০১১ জনেরও বেশি শিশু এতীম হয়েছে। এছাড়া গত আটত্রিশ বছরে ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা অন্তত ১১,২৮৫ জন নারীর শ্লীলতাহানি করেছে।
নিপীড়ন ও নৃশংসতার খবর যেন বাহিরে না যায়, সেজন্য দখলদার ভারত সরকার অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে সংবাদ প্রচার চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি প্রতিবাদী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরগুলো দমনের লক্ষ্যে গণমাধ্যম, সংবাদ প্রকাশনা সংস্থা ও এক্টিভিস্টদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো কথিত সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে বন্ধ করে দিয়েছে।
গত ৭৯ বছরের দখলদারিত্বে কাশ্মীরিরা প্রতিদিন অবর্ণনীয় নৃশংসতা সহ্য করছে। তারা প্রতিনিয়ত দখলদার ভারতীয় বাহিনীর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে নারী-পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকল প্রকারের মানুষ চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ২০১৪ সালে ভারতে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলিম-বিদ্বেষ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে, দখলদার ভারতের এতো দমনপীড়ন কাশ্মীরিদের সংকল্প ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা ভারতীয় দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের নৃশংস কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই নীরব থাকা উচিত নয় এবং এই অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ও তার বাহিনীকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে, শ্রীনগরে জারি করা এক বিবৃতিতে অল পার্টিজ হুরিয়াত কনফারেন্স জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আবেদন জানিয়েছে, যাতে ভারত ও অধিকৃত অঞ্চলের কারাগারে অমানবিক পরিস্থিতিতে বন্দি থাকা এপিএইচসি নেতা ও কর্মীসহ সকল কাশ্মীরি রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র
– https://tinyurl.com/2uxrhb58


