
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার রাজপথে আবারও হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠন ‘বঙ্গসেনা’ মিছিল বের করেছে। মিছিলে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের স্লোগান ছিল, ‘বঙ্গসেনা দিচ্ছে ডাক, বাংলাদেশকে কর ভাগ’। আরেকটি স্লোগান ছিল, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, ওই আমাদের ঠিকানা’। মিছিলে গেরুয়া পোশাক পরিহিত নারীদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য গেছে; তারা পোস্টার ও ব্যানার বহন করেছিল।
কট্টর এ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন তাদের আন্দোলনের নাম দিয়েছে ‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলন। তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্থ সামন্তর নাম রয়েছে, এছাড়া সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাস এবং প্রধান মুখপাত্র হিসেবে সুভাষ মজুমদারের নাম আছে।
নারায়ণ দাস ও সুভাষ মজুমদার দুজনে স্বীকার করেছে, তাদের সাথে বাংলাদেশের বেশ কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে।
এমনকি বাংলাদেশের বিতর্কিত ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-সংগঠনের সাথেও যোগাযোগ আছে বলে সে স্বীকার করেছে। সে জানায়, এ বিষয়গুলো প্রকাশ করলে বাংলাদেশের সংগঠনের নেতারা বিপদে পড়তে পারে।
প্রেসিডেন্ট পার্থ সামন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে মুখপাত্র সুভাষ মজুমদার জানায়, নানা কারণে সে এখন আত্মগোপনে রয়েছে এবং এখনই সামনে আসতে আগ্রহী না।
তার ভিত্তিহীন দাবি, ‘বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তাই আমরা বঙ্গভূমি প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছি। পদ্মার দক্ষিণ পাড় ও মেঘনার পশ্চিম পাড়ে যে ছয়টি জেলা রয়েছে, সেগুলো হিন্দুদের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছি, তাই ‘বঙ্গভূমি’র দাবি তুলেছি।
তাদের দাবি বাংলাদেশের ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া ও বরিশাল—এই সাবেক ৬টি জেলা হিন্দুদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে। সেখানে তারা বাংলাদেশ ভেঙে হিন্দুদের জন্য ‘বঙ্গভূমি’ নামে রাষ্ট্র তৈরি করবে। এ জন্য তারা ইতিমধ্যে জাতিসংঘেও চিঠি পাঠিয়েছে।
সে হুমকি দিয়ে বলেছে, যদি তাদের দাবি মানা না হয়, তবে ‘বঙ্গসেনা’ যা যা পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন, তা করতে পিছপা হবে না।
পরবর্তীতে এক ফোনালাপে সে হিন্দুদের বসবাসের জন্য বাংলাদেশে ২১টি জেলা দাবি করেছে। ‘চিকেনস নেক’ করিডোর সম্পর্কে সে বলেছে, এই করিডোরে ভারতের স্বার্থের কারণে তারা রংপুর জেলাকেও বঙ্গভূমিতে শামিল করার দাবি জানাবে। তারা হিন্দুদের জন্য বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি চায়। তার অবান্তর দাবি, বাংলাদেশের ভূমির ৮০ শতাংশ একসময় হিন্দুদের ছিল, যার মধ্য থেকে তারা কেবল এক-তৃতীয়াংশ দাবি করেছে।
টেলিফোন সাক্ষাতকারে বঙ্গভূমির সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাস জানায়, ‘বঙ্গসেনা’র সদর দপ্তর আসামের কার্বি আংলং জেলায় অবস্থিত। তবে ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়েও তাদের ভালো উপস্থিতি রয়েছে। বঙ্গসেনা তাদের সেনাদের কোথায় প্রশিক্ষণ দেয়—এই প্রশ্ন করা হলে সেনাধ্যক্ষ তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/57eex3mr


