
তুর্কমেনিস্তান থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় গ্যাস পরিবহনের লক্ষ্যে গৃহীত টাপি প্রকল্পে আফগানিস্তানের অংশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেরাত নগরী পর্যন্ত নির্ধারিত পাইপলাইন রুটের একটি বড় অংশে প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই অগ্রগতি দেশটির শিল্প, বিদ্যুৎ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেরাত নগরী পর্যন্ত মোট একশ তিপ্পান্ন কিলোমিটার পাইপলাইন রুটের মধ্যে সাতাশি কিলোমিটারের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের কোম্পানিগুলোর প্রধান আহমদ জান বিলাল হাফিযাহুল্লাহ বলেন, প্রকল্পটি হেরাত পর্যন্ত পৌঁছালে প্রথম পর্যায়ে শিল্প পার্ক এবং দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকতের নির্দিষ্ট বিদ্যুৎ প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে সাধারণ জনগণের মাঝেও এই গ্যাস বিতরণ করা হবে, যা শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও অগ্রগতি আনবে।
দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকতের প্রধান আব্দুল বারী ওমর হাফিযাহুল্লাহ জানান, তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা প্রায় শেষের দিকে। তিনি আরও জানান, এই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত হাফিযাহুল্লাহ বলেন, খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রথম ধাপে হেরাত পর্যন্ত পাইপলাইন পৌঁছানো হচ্ছে, এরপর তা কান্দাহার হয়ে পাকিস্তান অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করবে। আফগান অংশটি দ্রুত সম্পন্ন করতে ইমারাতে ইসলামিয়া দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুলহক হামাদ বলেন, হেরাত পৌঁছাতে এখন মাত্র ছেষট্টি কিলোমিটার পথ বাকি রয়েছে। এর মাধ্যমে শহরটি শিগগিরই গ্যাস সুবিধার আওতায় আসবে। তার মতে, আফগানিস্তান বছরে পাঁচশ মিলিয়ন থেকে দুই বিলিয়ন ঘনমিটার পর্যন্ত গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টাপি প্রকল্পের প্রকৃত গুরুত্ব শুধু জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। এই প্রকল্প দেশের আর্থিক প্রবাহ ও বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে। তাদের মতে, এই প্রকল্প আফগানিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ট্রানজিট করিডোরে পরিণত করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টাপি প্রকল্পের আওতায় আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে প্রায় আটশ ষোল কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মিত হচ্ছে। দুই হাজার পনেরো সালে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নানা আর্থিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আফগান অংশের কাজ একাধিকবার বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে দুই হাজার চব্বিশ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি এগিয়ে চলায় অনেকের কাছে টাপি আর শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়; বরং এটি সেই ভবিষ্যতের প্রতীক, যেখানে আফগানিস্তান পুরো অঞ্চলের মধ্যে সংযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
তথ্যসূত্র:
1. 87 Kilometers of TAPI Project Completed Toward Herat, Officials Say
– https://tinyurl.com/4n5x3fer


