হুররাস আদ-দ্বীন: আল-কায়েদার সিরিয়ান শাখা

0
411

সিরিয়ার জিহাদে ফেতনার ছড়াছড়িতে মুজাহিদীনের মাঝে বার বার বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, মহান রব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানিতে সিরিয়াকে কুফফার বাহিনীর কবল থেকে উদ্ধারের জন্য এখনো সেখানে জিহাদ চলমান রেখেছেন হক্বপন্থী মুজাহিদ সংগঠনগুলো। তেমনই একটি সংগঠন হলো আল-কায়েদার নবগঠিত সিরিয়ান শাখা তানযিম হুররাস আদ-দ্বীন। এ দলটি সিরিয়ার জিহাদকে ফেতনামুক্ত রেখে জিহাদী দলগুলোর ঐক্যগঠনে যেমন ভূমিকা পালন করছে, তেমনি অন্যান্য হক্বপন্থী জিহাদী দলগুলোর সাথে মিলে কাফের বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। আর তাই, সিরিয়ায় কাফের বাহিনীর প্রধান আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তানযিম হুররাস আদ-দ্বীন। দলটির নেতাদের ধরিয়ে দিতে কাফেররা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি দলটির উপর বিমান হামলা চালানোরও চক্রান্ত করছে তারা। আল্লাহ মুজাহিদীনকে হেফাজত করুন, সাহায্য করুন।

এ বিষয়গুলো নিয়ে ২০১৯ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর ‘দ্য ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট’-এর ওয়েবসাইটে এ‍্যারন ওয়াই.জেলিন নামের এক গবেষকের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।  প্রতিবেদনটি উপকারী বিবেচনায় আমরা সেটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছি এবং বাংলাভাষী পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে সেটি হুবহু পেশ করছি।


যদিও অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে হুররাস আদ-দ্বীন এখনো তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর উপর নির্ভরশীল, তবুও উদীয়মান সংগঠনটি ইদলিব প্রদেশে তাদের উপস্থিতি জোরদার করে চলছে; অন্যান্য দলসমূহকে নিজেদের পতাকাতলে ভেড়ানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি ভবিষ্যত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে কার্যকরীভাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করছে; জোরালোভাবে নিজেদেরকে সামনের কাতারে নিয়ে আসছে।

কয়েকসপ্তাহ পূর্বে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুররাস আদ-দ্বীনকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এর তিনজন নেতাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। হুররাস আদ-দ্বীন সিরিয়ায় আল-কায়েদার অফিসিয়াল শাখা। হাইআতু তাহরীর আশ-শাম প্রকাশ্যে নিজেদেরকে তাদের মূল অভিভাবক সংগঠন আল-কায়েদা থেকে গুটিয়ে নেয়ার পর, হুররাস আদ-দ্বীন উক্ত অবস্থান দখল করেছে।  এদিকে গত আগস্টে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থীরা হুররাস আদ-দ্বীনের সিনিয়র নেতা আবু খালেদ আল মুহান্দিস (ওরফে সুহাইব)-কে হত্যা করে।

এ পর্যায়ে খুবই জরুরি বিষয় হচ্ছে- হাইআতু তাহরীর আশ-শামের সাথে সংগঠনটির আদর্শিক দ্বন্দ্ব খুঁজে বের করা এবং সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এর (হুররাস আদ-দ্বীন) সদস্যরা আসলে কী করছে তা অনুসন্ধান করা। যদি আসাদ সরকার ইদলিবে হামলা করার বা তা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে হুররাস আদ-দ্বীন এ থেকে ফায়দা লুটতে পারবে। আসাদ সরকার এ ধরনের (ইদলিবে হামলা বা দখল) কিছু করলে তারা যৌক্তিকভাবে দাবি করতে পারবে যে,  প্রতিদ্বন্দ্বীরা ব্যর্থ হয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ব্যর্থ হয়েছে অঞ্চলটিতে দখল বজায় রাখতে; হাইআতু তাহরীর আশ-শাম ব্যর্থ হয়েছে তুরস্কের সাথে সাময়িক শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে। এভাবে তারা সিরিয়ার অপরাপর জিহাদি সংগঠনগুলোকে নিজেদের দলে ভেড়াতে এবং ভবিষ্যত বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণে সক্ষম হবে।

যৌথ সামরিক অভিযান

হাইআতু তাহরীর আশ-শাম আল কায়েদা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর 2018 সালের ফেব্রুয়ারীতে হুররাস আদ-দ্বীন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই থেকে সংগঠনটি এর প্রধান নেতা খালেদ আল আরুরী ওরফে আবুল কাসেম আল উরদুনী এবং শূরা  সদস্যদের পরামর্শক্রমে পরিচালিত হচ্ছে। শূরা সদস্যদের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: সামির হিজাজী ওরফে আবু হামাম আল শামী ওরফে ফারুক আল সূরী, সামী আল উরাইদী ওরফে আবু মোহাম্মদ আল শামী, বেলাল খুরাইসাত ওরফে আবু হুযায়ফা আল উরদুনী, ফারাজ আহমদ নানা এবং আবু আবদুল করিম আল-মাসরী।

দলটি তার প্রতিষ্ঠালগ্নে মুসলিমদের অবশিষ্ট ঘাঁটির সুরক্ষায় সকল দল ও উপদলগুলোকে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্তত ষোলোটি দল হুররাসুদ দ্বীনের সাথে জোটবদ্ধ হয়। দলগুলো হল:

১/জায়শুল মালাহিম

২/জায়শুস সাহিল

৩/ জায়শুল বাদিয়া

৪/ সারিয়‍্যা কাবুল

৫/ সারিয়‍্যা আল গূতা

৬/ কাতিবাতু আবু বকর সিদ্দিক

৭/ কাতিবাতু আবী উবায়দা ইবনে জাররাহ

৮/ সারিয়্যা আল গুরাবা

৯/ কাকিবাতু বদর

১০/ সারিয়‍্যা সাহিল

১১/ সারিয়্যা আব্দুর রহমান বিন আউফ

১২/ কাতাঈবু জুনদিশ শাম

১৩/ কাতাঈবু ফুরসানিল ঈমান

১৪/ কুওয়াতুন নুখবাহ

১৫/ মাজমূআতু আব্দুল্লাহ আযযাম

১৬/ কাতিবাতু উসদিত তাওহীদ।

ঐক্যের এই বিষয়টিকে হুররাস আদ-দ্বীন পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ব্যাপকভাবে প্রচার করে। এর পেছনে তাঁদের লক্ষ্য এই ছিল যে, মানুষ বুঝবে সংগঠনটি নিঃসঙ্গ নয়। এর প্রতি স্থানীয় দলগুলোর সমর্থন রয়েছে। সেই থেকে তাঁরা যোদ্ধাদের জন্য কমপক্ষে চারটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করেন।

তাঁদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক যুদ্ধসংঘ গঠন করেন। প্রথমবারের মত ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে হুররাস আদ-দ্বীন এবং আনসারুত তাওহীদ মিলে হিলফু নুসরাতিল ইসলাম নামে একটি যুদ্ধসংঘ গঠন করেন। তেমনি ২০১৮ সালের অক্টোবরে  গঠিত হয় ‘ওয়া হাররিদ্বিল মুমিনীন অপারেশন রুম’। এই সংঘের মধ্যে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জাবহাতু আনসারুদ দ্বীন এবং জামায়াতু আনসারুল ইসলাম নামে পরিচিত ছোট দুটি দলও ছিল।

হুররাস আদ-দ্বীন এককভাবে এবং জোটবদ্ধভাবে (২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সর্বমোট 200 হামলার দায় স্বীকার করে। এই হামলাগুলো হয়েছে বিভিন্ন পল্লী এলাকায় ও ছোট ছোট শহরে। এর মধ্যে আলেপ্পো প্রদেশে বারোটি, হামা প্রদেশে ষোলোটি, ইদলিবে সাতটি এবং  লাতাকিয়া প্রদেশের পনেরোটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব হামলার কমপক্ষে তিনটি হামলা পরিচালিত হয়েছে হুররাস আদ-দ্বীন ও হাইআতু তাহরীর আশ-শামের যৌথ অংশগ্রহণে। এ থেকে বোঝা যায় যে, দল দুটির সম্পর্ক যতটা অম্লমধুর বা বৈরী মনে করা হয় তারা আসলে ততটা বৈরী নয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আবুল লাইস আল হাবিবি নামে পরিচিত হাইআতু তাহরীর আশ-শামের একজন যোদ্ধা ব্রিটিশ ডক্টরাল স্টুডেন্ট আইনান তামীমীর  সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হুররাসুদ দ্বীনের খাদ্য ও গোলাবারূদের সম্পূর্ণ যোগান দেয় হাইআতু তাহরীর আশ-শাম।  ২০১৯ এর জুলাইয়ে জার্মান বংশোদ্ভূত হুররাস আদ-দ্বীনের একজন যোদ্ধা একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সমস্যা কেবল হাইআতু তাহরীর আশ-শামের নেতাদের সাথে। দুই দলের সাধারণ যোদ্ধাদের মাঝে কোন মতবিরোধ নেই।

[বি.দ্র: গত ৪ঠা ডিসেম্বরেও সিরিয়ার ইদলিবে হাইআতু তাহরির আশ-শামের মুজাহিদগণের সাথে মিলে ‍হুররাস আদ-দ্বীন নেতৃত্বাধীন ওয়া হাররিদ্বিল মু’মিনীন অপারেশন রুমের মুজাহিদগণ নুসাইরীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছেন।- সম্পাদক]

 

দাওয়াহ, হিসবাহ এবং ফান্ড সংগ্ৰহ

সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি সংগঠনটি ইদলিব প্রদেশের বিভিন্ন অংশে জোরালোভাবে তাদের মতাদর্শ প্রচার করছে। দুআতুত তাওহীদ আল দাআওয়ী সেন্টারের মাধ্যমে তাঁরা একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এর পরিচালনায় রয়েছেন উসামা আল শাওকানী। এই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন: হুরায়রা আল শামী, আবুল বারা আল মুহাজির ওরফে আল তিউনিসী, আবু আদনান আল শামী, আবু মোহাম্মদ আল শামী এবং আবু আব্দুর রহমান আল মাক্কী।

এই প্রতিষ্ঠানের কর্মতৎপরতার কয়েকটি হচ্ছে: জুমার নামাজে সমবেত মানুষকে বোঝানো, যুবকদের মাঝে আলোচনা করা, সাধারণ মানুষের মাঝে দাওয়াতী কাজ করা, বিভিন্ন আলোচনা সভায় আলোচনা করা, দাওয়াহর উদ্দেশ্যে সফর করা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেওয়া, হাসপাতাল পরিদর্শন করা এবং অসুস্থদের খোঁজখবর নেওয়া। তেমনি এর সদস্যরা গাড়ীর চেকপয়েন্টে নিজেদের আদর্শ সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করে থাকেন এবং তাঁদের মতাদর্শ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে থাকেন।

এই প্রতিষ্ঠান অনলাইনের সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ইদলিব প্রদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অনুরূপ একশত সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।  খুব সম্ভব আরো অনেক বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন তাঁরা করেছেন, তবে সেগুলো কেবল স্থানীয়ভাবে প্রচার করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য সাহল আল রৌজ এলাকায় একটি গ্রীষ্মকালীন স্কুল চালু করেছে। এর ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত খরচ প্রতিষ্ঠান বহন করে থাকে। এখানে আরবি ও ইংরেজি ভাষা এবং ধর্মীয় বিষয়াদি তথা কুরআন-হাদীস ও শরীআহ শিক্ষা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে।

হুররাস আদ-দ্বীন সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়ার জন্য স্বতন্ত্র একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি অন্যান্য কাজের পাশাপাশি হিসবাহ পেট্রোল তথা মানুষের নৈতিকতা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং তা তদারকি করেন। স্কুল ছাত্রীদের মাঝে শরিয়াসম্মত শালীন পোষাক বিতরণ করেন।

জাহ্হিযুনা ক্যাম্পেইনের আওতায় হুররাস আদ-দ্বীন এবং এর শাখা ওয়া হাররিদ্বিল মু’মিনীন অপারেশন রুম সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানীয়ভাবে এবং অনলাইনে ফান্ড সংগ্রহ করে থাকেন। এই ক্যাম্পেইনের মূলনীতিতে বলা হয়েছে “অর্থ জিহাদের মেরুদণ্ড। অর্থের অভাবে মুজাহিদীনের সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে”। এই অর্থ অস্ত্রশস্ত্র (যেমন একে ৪৭, বুলেট, রকেট চালিত গ্ৰেনেড) খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানী, আহত যোদ্ধাদের  চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে ব্যবহৃত হয়। এই ক্যাম্পেইন শুরু হয় মে মাসের মাঝের দিকে। তাঁরা নিজেদের সমর্থকদেরকে নিবেদিত টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে মেসেজ পাঠানোর দিকনির্দেশনা দেন এবং এসকল অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়। ফলে কেউ ফান্ড পাঠাতে চাইলে পাঠাতে পারেন। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সিস্টেমে ঢোকার কিছু পথ হুররাস আদ-দ্বীন কর্মকর্তাদের রয়েছে। সম্ভবত ফ্রন্ট অ্যাকাউন্টের মধ্য দিয়ে।

ভবিষ্যত বিদ্রোহের অপেক্ষায়

সামরিক ও সামাজিক এতসব তৎপরতা সত্ত্বেও ইদলিবে হুররাস আদ-দ্বীন সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী গ্রুপ নয়। এটি এখনো অনেকাংশে হাইআতু তাহরীর আশ-শামের ওপর নির্ভরশীল। যদি হুররাস আদ-দ্বীন লক্ষণীয়ভাবে শক্তি সঞ্চয় করে তাহলে হয়তো হাইআতু তাহরীর আশ-শাম নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে এবং একে দমন করতে হুররাস আদ-দ্বীনের নেতাদের গ্রেফতার করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয়ভাবে বিকাশের সম্ভাবনা হুররাস আদ-দ্বীনের সামনে অনেকটা সীমিত। আল-কায়েদার সমর্থকদের সামনে সব সময় বড় একটি সমস্যা হচ্ছে, যখন তাঁরা বিস্তার লাভ করেন এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন,তখন তাঁরা পড়ে যান উভয় সংকটে; তাঁরা তাঁদের মতাদর্শের উপর অবিচল থাকবেন নাকি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে প্রয়োগবাদী হবেন? এই উভয় সংকটের কারণে হাইআতু তাহরীর আশ-শাম নিজেদেরকে আল কায়েদা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আল-কায়েদা নতুন সমর্থকগোষ্ঠী হিসেবে হুররাস আদ-দ্বীন গঠন করতে বাধ্য হয়েছে।

এখন  মার্কিন নীতিনির্ধারকদেরকে ভেবে দেখতে হবে যে, হুররাস আদ-দ্বীনের এই সক্রিয়তা ও গতিশীলতা তাদেরকে আরো অধিক সংখ্যক অভ্যন্তরীণ হামলা চালাতে তাড়িত করবে কিনা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনা সংস্থাকে সংগঠনটির তৎপরতা ও অপারেশনগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় মার্কিন সেনারা যেভাবে বিমান হামলা করেছে, তেমনি তাঁদের উপরও সুচিন্তিতভাবে বিমান হামলা চালাতে হবে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে আসাদ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। যদি এই দলগুলোর ইদলিব দখলের ভবিষ্যত কোনো পরিকল্পনা থাকে এবং ইদলিবের পতন হয় তাহলে হুররাস আদ-দ্বীন বিদ্রোহের নেতৃত্বে চলে আসতে পারে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন