“নাম কিয়া? — আশফাক ”…অতঃপর বুকে পাঁচটা গুলি

1
501

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে মুসলিমদের উপর সন্ত্রাসী হিন্দুরা এক নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত পত্রপত্রিকার ভাষ্যমতে নিহতের সংখ্যা ৫১জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই নালা-নর্দমা থেকে লাশ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও অন্যান্য সূত্রে এ সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি।
মুশরিক হিন্দুদের চালানো এ নির্মম গণহত্যায় নিহতদের অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম, স্ত্রী হারিয়েছেন তার স্বামী, স্বামী হারিয়েছেন তার স্ত্রী এবং পিতা-মাতা হারিয়েছেন তাদের আদরের কলিজার টুকরা প্রিয় সন্তান। মায়েরা যখন তাদের ছোট ছেলেদের হারিয়েছেন, ছোট বাচ্চারা হারিয়েছে তাদের আশ্রয়স্থল পিতাকে। তারা আর কখনও তাদের পিতাদের দেখতে পাবে না। নববধূ হারিয়েছে তার নতুন স্বামীকে। এরকমই একটি গল্প আশফাক হুসেনের স্ত্রীর, মাত্র এগার দিন আগে আশফাকের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

মোস্তফাবাদের ২২ বছর বয়সী যুবক আশফাক হুসেন। মালাউন মুশরিক হিন্দুরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আশফাক সেদিন কাজ করতে বেরিয়েছিলেন। হিন্দু সন্ত্রাসীরা সেদিন মুসলিমদেরকে যেখানেই পাচ্ছিল, সেখানেই হত্যা করছিল। এমনকি সাংবাদিকদের পরনের কাপড় “প্যান্ট” খুলে পর্যন্ত পরীক্ষা করছিল মুসলিম কি না।
হিন্দু সন্ত্রাসীরা পথিমধ্যে এক যুবককে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করে “তেরা নাম কিয়া?” (তোর নাম কি?)। লোকটি উত্তর দেন—“আশফাক হোসেন।” ইসলামী নাম শুনেই মালাউন হিন্দুরা সাথে সাথে আশফাকের বুকে পাঁচটি গুলি নিক্ষেপ করে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আশফাক।
আশফাকের ঘটনায় তার পুরো পরিবার নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। মাত্র ১১দিন আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন৷ আশফাকের এক আত্মীয় বলেন, “উসকে হাতোঁ কী মেহেন্দি কা রঙ ছোঠা থা আভি,” (তাঁর হাতের মেহেদির রঙ এখনও শুকায়নি )। তাঁর স্বজনরা জানিয়েছিলেন যে, ফেব্রুয়ারী মাসের ১৪ তারিখে আশফাক বিয়ে করেছেন। স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর নববিবাহিতা স্ত্রী একেবারেই ভেঙে পড়েছেন।

আশফাকের পুরো পরিবার নিস্তব্ধ- নীরবতায় ডুবে আছে। কারণ তাদের পরিবারে আশফাক আর কোন দিনও ফিরে আসবেনা। আশফাকের খালা হাজরা বলছিলেন, “কিতনি তাকলিফ কা সামনা কারকে হাম আপনে বাচ্চোঁ কো পাল পোসকার বাঁড়া করতে হোঁ, আর এক হি ঝাঁটকে ম্যাঁ আ-কার, ও্যাঁসে ওঁ মার ডালতে হ্যাঁ” (অনেক কষ্ট করে আমরা আমাদের বাচ্চাকে লালন-পালন করেছি। আর তারা মাত্র এক মুহূর্তেই আমাদের থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে )।
“আঁপ হি বাতায়ে উসকি ১১ দিন কি বিবি কিয়া কারেগি আব? কাঁহা জায়েগি ওঁ? কিয়াঁছি জিয়েগি ওঁ! ” (আপনারাই বলুন, আশফাকের ১১দিনের স্ত্রী এখন কী করবে? সে কোথায় যাবে? কীভাবে বাঁচবে?)— হাজরা বলছিলেন আর কাঁদছিলেন।

মুদাসসির আশফাকের ভাই। তিনি ভাইয়ের লাশ আনতে হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি তাঁর ভাইকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন।
তিনি বলেন, আশফাক তাঁর বন্ধুদের সাথে ব্রিজপুরি পুলিয়াতে পৌঁছাতেই হিন্দু সন্ত্রাসীরা তাদের ঘিরে ফেলে। আশফাকের বন্ধুরা সশস্ত্র লোকদের দেখেই তাঁকে একা রেখে পালিয়ে যায়। মুখোশ পরে হিন্দু সন্ত্রাসীরা আশফাককে তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করে। আশফাক তাত্ক্ষণিক জবাব দেয়। নাম বলতেই তাকে গুলি করে হিন্দুরা।
মুদাসসির বলেন, তাকে কেবল গুলিবিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। সে অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত হিন্দুরা তাকে বেশ কয়েকবার অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

মুদাসাসিরের মতে আশফাকের বন্ধুরা দূর থেকে ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিল। কিন্তু তারা নিজেরাই অসহায় ছিল এবং তাকে বাঁচাতে কিছুই করতে পারেনি। হিন্দু সন্ত্রাসীরা গুলি করে যাওয়ার পর বন্ধুরা তাকে জিটিবি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পক্ষে হাসপাতালে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে, কাছের অন্য একটি হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘন্টা হাসপাতালে থাকার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আশফাক, শামিল হন লাশের মিছিলে।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন