দিনে দিনে বাড়ছে পরিক্ষাহীন করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা!

0
332

দেশে দেশে যখন দানবীয় রূপ ধারণ করেছে এই করোনা ভাইরাস, তখন বাংলাদেশে এত কম সংখ্যক করোনা রোগী সত্যি আশঙ্কা জাগানিয়া বিষয় বলে মন্তব্য করছেন দেশের সুশীল সমাজ।

তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব উপসর্গ দেখা যায়, তেমনই উপসর্গ নিয়ে গত ১২ দিনে ৩১ জনেরও উপরে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জ্বর সর্দি কাশি শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে এসব মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

১৯ মার্চ : ৩ জন

১৯ মার্চ জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ আছে এমনসব লক্ষণ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ভেতর ২ জন খুলনায় এবং একজন চট্টগ্রাম নগরীর। খুলনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন ভারত থেকে ভ্রমণ করে দেশে ফিরেছিলেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক নারীর মৃত্যু হয়।

২২ মার্চ: ৩ জন

ঢাকার টোলারাবাগে সর্দি জ্বর ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে একজন মারা যায়। তিনি ২১ মার্চ করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির প্রতিবেশি ছিলেন। তিনিও একই লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল পজেটিভ আসে। তবে এই মৃত দুই ব্যক্তির পরিবারের কেউই বিদেশ ফেরত নয়।

অপর দুই জনের ভেতর ৬০ বছর বয়সী একজন ভৈরবে মারা গেছেন। তিনি ইতালী ফেরত প্রবাসী ছিলেন। অন্যজন যুক্তরাষ্ট্র ফেরত প্রবাসী নারী ছিলেন। তিনি ১৬ মার্চ থেকে আইসোলেশনে ছিলেন।

২৪ মার্চ: ৪ জন

এদিন সারাদেশে করোনা আক্রান্তদের মতো উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের ভেতরে সিলেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৬৫ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ, রাজশাহীতে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসিউতে ভর্তি থাকা ৪৬ বছর বয়সী এক নারী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা একনারী এবং জামালপুরে এক বৃদ্ধর মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে যে নারী মারা যান তার এক সপ্তাহ আগে তার মা একই রকম ভাবে সর্দি-জ্বর-শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা যান।

২৫ মার্চ : ২ জন

ঢাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় একজন মারা যান। তিনি একটি হাসপাতালের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকায় তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছিলো।

খুলনায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৪৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি মারা যান। প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিলো।

২৬ মার্চ: ৩ জন

এদিন সারা দেশে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি ঢাকাতে একটি হাসপাতালে করোনায় মৃত ব্যক্তির পাশেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। পরে তিনি স্থানান্তরিত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকেই তারও করোনার উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়।

একই দিনে খাগড়াছড়িতে ঠাণ্ডা, জ্বর ও শ্বাস কষ্টে ভুগে এক আদীবাসী যুবক মারা যান এবং বাসাবো এলাকায় এক ৬৫ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ মারা যান।

২৭ মার্চ: ২ জন

এদিন ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে। এদের ভেতর একজন বগুরায় শিবগঞ্জে এবং অন্যজন নোয়াখালীর চৌমুহনী উপজেলায় মারা গেছেন। দুজনই জ্বর আক্রান্ত ছিলেন।

২৮ মার্চ: ৩ জন

এই দিন সারাদেশে জ্বর, সর্দি, কাশি শ্বাসকষ্ট উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লালমনিরহাটে ঢাকা থেকে আসার রিকশা চালক জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। একই উপসর্গ নিয়ে বরিশালে এক জন ও নওগাঁয় একজন মারা যান।

২৯ মার্চ : ৮ জন

২৯ মার্চ সারাদেশে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মাঝে বরিশালে ২ জন, পটুয়াখালিতে একজন, মানিকগঞ্জে একজন, ঢাকায় একজন, নড়াইলে একজন ও শেরপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে নওগাঁর রানীনগরে ঢাকা থেকে আসা এক যুবক জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। শনিবার সকালে প্রচণ্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁয় আসেন ঐ যুবক।

এমনিভাবে, জ্বর ও সর্দি কাশির চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন বগুড়ার শিবগঞ্জের অপর আরেক ব্যাক্তি। তার স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, জ্বর সর্দির কথা শুনে করোনা সন্দেহে কোন ডাক্তার তার কিচিৎসা দিতে আসেনি। এমনকি হটলাইন এবং হাসপাতালগুলোতে ফোন দিয়েও সাড়া মেলেনি কারো। প্রতিবেশীরাও করোনা হয়েছে ভেবে তাকে সাহায্য করতে আসেনি। পরে শনিবার মধ্যরাতের দিকে ঐ ব্যক্তি মারা যায়।

৩০ মার্চ : ৪ জন

দিনাজপুরে ৪০ বছর বয়সী একজনের জ্বর সর্দি কাশি, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে, কুষ্টিয়ায় একই উপসর্গ নিয়ে মারা যান এক ইজিবাইক চালক, যশোর জেনারেল হাসপাতালে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশু মারা যান। এদিকে শ্রীমঙ্গলে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আল আমিন নামে এক যুবক (২২) মারা গেছেন। জ্বর, সর্দি, কাশি, ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে পাঁচটা হাসপাতাল ঘুরে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে শনিবার বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

৩১শে মার্চ:

নড়াইল সদর হাসপাতালে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তির ১৫ মিনিটের মাথায় শওকত মোল্লা (২৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকায় করোনা সন্দেহে চিকিৎসা দেয়নি কোনা হাসপাতাল, অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় তারেক রিপন নামের একব্যক্তির বোনজামাইয়ের।

এছাড়াও  করোনার ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেই প্রতিদিনই মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় শ্বাসকষ্টে ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে এক ঝাল-মুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের জানিয়েছে ওই ব্যক্তি (৪০) পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা। শহরের চৌড়হাস সাহাপাড়া এলাকায় পরিবারে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। গত শুক্রবার তার সর্দি দেখা দেয়। এরপর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। সকালে শ্বাসকষ্ট বেশি হলে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তারা হাসপাতালে নিয়ে আসে।

ওই মৃত ব্যক্তির স্ত্রী জানান, বাসা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুই থেকে তিনবার রক্ত বমিও করেছেন তিনি।

তবে ওই মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের পরিবারে কোনো বিদেশি নেই। তারপরেও তার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কি-না সেটা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর লাশ সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিতা-পুত্রের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের সীতাহরণ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৯২) ও তার ছেলে ফজল হক (৪৫)।

পিতা-পুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ( আইইডিসিআর) এর তথ্যমতে দেশে এখন পর্যন্ত ৫ জনের করোনায় মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন