কর্মহীন দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ, দ্বিগুণ দারিদ্র্যের হার

0
735
কর্মহীন দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ, দ্বিগুণ দারিদ্র্যের হার

‘করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হবে, অনাহারে মারা যাবেন তার চেয়ে বেশি মানুষ’ এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। এ অবস্থায় জনবিচ্ছিন্ন সরকারের নেয়া উদ্যোগে সুশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে করোনা পরবর্তী অর্থনীতি।

রাজধানীতে প্রায় ৩০ বছর ধরে দিন এনে দিন খাওয়া এক রিকশাচালক বলেন, ২০ বছর আগে এক পা হারিয়েছি, আরেক পায়ের উপর ভর দিয়েই ৬ সদস্যের সংসার চালাতাম। করোনায় কাজ না থাকায় জীবন চালানো কষ্ট হয়ে গেছে।

দেশে তার মতো দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় ৪ কোটি। সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে পিপিআরসি ও বিআইজিডি জানায়, করোনা মহামারীতে দিন আনে দিন খায় এমন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের আয় বন্ধ হয়েছে। পরিবারের ব্যয়ভার বহনে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তকেও।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গেল এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ এগিয়েছে দেশ। তবে, বেড়েছে আয় বৈষম্য, গড়ে ওঠেনি উপযুক্ত মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। তাই করোনার ধাক্কায় বেসামাল হতে পারে অর্থনীতি।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ২০১৯ সালে যেখানে সরকারি হিসেবে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০.৫ ভাগ, এই মুহূর্তে দারিদ্র্যের হার বেড়ে প্রায় ৪১ ভাগ হবে।

বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহতাব খানম বলেছেন, কভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সারি লম্বাই হবে, যা সমাজে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করবে। ক্ষুধার কারণে মনুুষ্যত্ব লোপ পাবে। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। মানুষে মানুষে হানাহানি বাড়বে। রিপোর্ট: বিডি প্রতিদিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, কর্মহীনতা সব সময় আমাদের জন্য একটা অভিশাপ। যে কোনো দেশকে পিছিয়ে দেয় এই বেকারত্ব। আর এবারের সংকটটা একটা নতুন সংকট। এটার জন্য আওয়ামী সরকার প্রস্তুত ছিল না।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, ক্ষুধার্ত মানুষ অপরাধে জড়াবে। এ জন্যই সবার আগে মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। তার আগে মানুষকে কাজ দিতে হবে। তবে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সবার আগে মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে। জীবনই যদি না বাঁচে তাহলে খাবার দিয়ে কী হবে। আবার বাঁচার জন্য খাবারের প্রয়োজন হবে। ফলে দুটোকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন