আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত ন্যাটোর

1
884
আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত ন্যাটোর

ট্রাম্প সৈন্য সরানোর কথা বলেছিল। কিন্তু ন্যাটো আপাতত আফগানিস্তান থেকে সৈন্য সরাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে এখনই সরছে না সৈন্য। জানিয়ে দিয়েছে ন্যাটোর প্রধান।

ন্যাটোর মিলিটারি অ্যালায়েন্সের সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টোলটেনবার্গ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, যৌথ বাহিনী কবে আফগানিস্তান থেকে সরবে, তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২০ সালে অ্যামেরিকা এবং তালেবানের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল, তা মেনে চললে ১ মে-র মধ্যে ন্যাটোর সৈন্য আফগানিস্তানের মাটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা।

প্রেসিডেন্ট কালের একেবারে শেষ পর্বে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিল, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই অ্যামেরিকা তাদের সৈন্য আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেবে। যদিও ট্রাম্পের ওই ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেনি ন্যাটো। ন্যাটো জানিয়েছিল, যৌথ বাহিনীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সৈন্য আমেরিকার। তারা সৈন্য সরিয়ে নিলে এতদিনের মিশন বিফল হবে। বাইডেন ক্ষমতায় আসার পরে অবশ্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। তারই মধ্যে ইউরোপের একাধিক দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ন্যাটো প্রধান এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেছিল স্টোলটেনবার্গ। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানায়, ন্যাটো অনেকগুলি বিষয় নিয়ে চিন্তিত।  গত দুই দশকে লাখ লাখ অর্থ খরচ হয়েছে। এখন যদি দ্রুত সেনা ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে মিশন সফল হবে না। এতদিনের পরিশ্রম বিফলে যাবে। সে কারণেই সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ন্যাটো প্রধানের বক্তব্য, ২০২০ সালে অ্যামেরিকার সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি চুক্তি সই হয়েছিল। সেখানে ২০২০১ সালের ১ মে-র মাধ্যমে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। ন্যাটোর বক্তব্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতি এখনো আসেনি আফগানিস্তানে।  ফলে আপাতত ফোর্স সরানো হবে না।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ন্যাটোর প্রধানকে সমর্থন করেছে। ডিডাব্লিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছে, এখন সেনা সরিয়ে নিলে ইউরোপে আক্রমণের সম্ভাবনা আরো বেড়ে যাবে। ফলে আপাতত সেনা সরানোর প্রশ্নই ওঠে না।

তবে ১ মে-র মধ্যে ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সরে না গেলে তালেবান ফের আক্রমণাত্মক হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ন্যাটো প্রধান জানিয়েছেন, সেই আশঙ্কা মাথায় রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হবে।

সূত্র: ডি ডব্লিউ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন