বড়াইবাড়ী যুদ্ধ: আগের সাহসিকতায় নেই বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড

2
874
বড়াইবাড়ী যুদ্ধ: আগের সাহসিকতায় নেই বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামের একটি গ্রাম বড়াইবাড়ি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লাগোয়া এই গ্রামটি অবস্থিত।

২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল এই গ্রামে ঘটে যায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

২০০১ সালে আজকের এই দিনে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী বিএসএফ কোন প্রকার কারণ ছাড়াই অতর্কিত ভাবে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশের ভূখন্ডে। ১০৬৭/৩ পিলার অতিক্রম করে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী বিডিআর ক্যাম্পের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে। বড়াইবাড়ী বিডিআর ক্যাম্পসহ আশপাশের গ্রাম তাদের দখলে নিতে এ বর্বরোচিত আক্রমণ মিশন ছিল তাদের। বাংলাদেশী ভূখন্ডে হানাদার বিএসএফ বাহিনীর গুলীতে নিহত হয় ৩ বিডিআর জোয়ান। অপরদিকে বিডিআরের গুলিতে বিএসএফ অফিসারসহ নিহত হয় ১৬ জনের অধিক মালাউন সদস্য। বিএসএফ বাহিনী পুড়িয়ে দেয় শতাধিক ঘরবাড়ি। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় কোটি টাকার সম্পদ।
ঘটনার দিন ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বড়াইবাড়ী বিওপিতে ডিউটিতে ছিলেন মাত্র ১১ জন বিডিআর সদস্য। ভোর ৫টার দিকে সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভারী অস্ত্রে সুসজ্জিত বিএসএফ বাহিনী স্থানীয়

গ্রামবাসীর কাছে হিন্দি ভাষায় জানতে চায়, বিডিআরের ক্যাম্প কোথায়?
তখন গ্রামবাসী বুঝতে পারেন এরা ভারতের বিএসএফের সদস্য।
সুচতুর লাল মিয়া ক্যাম্পের পরিবর্তে ক্যাম্প সদৃশ্য একটি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে দেয়। বিএসএফ সদস্যরা বিডিআর ক্যাম্প ভেবে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগুতে থাকে সেদিকে। এর ফাঁকে লাল মিয়া দৌড়ে গিয়ে বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের বিডিআর জোয়ানদের খবর দেয়। বিডিআর জোয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদেরকে সাহায্য করে স্থানীয় গ্রামবাসী।
সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ফায়ার। শত শত গুলি, চারিদিক থেকে গুলি। আমিও তখন অস্ত্র হাতে তুলে নিলাম।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ভোর পাঁচটা থেকে তীব্র গোলাগুলির আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে উঠে বড়াইবাড়ি গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকা।

এরই মধ্যে আশপাশের আরো দুটি বিডিআর ক্যাম্প থেকে আরো ২০জন সদস্য বড়াইবাড়িতে আসেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে বিএসএফকে প্রতিহত করে।
বড়াইবাড়িতে যখন তীব্র সংঘর্ষ চলছে তখন ঢাকায় তৎকালীন বিডিআর (এখন বিজিবি) সদরদপ্তরের নির্দেশনায় জামালপুর এবং ময়মনসিংহ থেকে আরো বিডিআর সদস্য পাঠানো হয় কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়িতে।

ময়মনসিংহ এবং জামালপুর থেকে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বিডিআর সদস্যরা বড়াইবাড়িতে গিয়ে পৌঁছান।

এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবারো শুরু হয় গোলাগুলি। এভাবে ১৮ই এপ্রিল সারাদিন এবং রাত গড়িয়ে ১৯শে এপ্রিল রাত পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলে।

বড়াইবাড়ি সংঘাতে ১৬জন বিএসএফ সদস্যের মৃতদেহ পাওয়া যায় বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দাবি ছিল, সে ঘটনায় বিএসএফ’র আরো বেশি সৈন্য মারা গেলেও অনেকের মৃতদেহ তারা ভারতে নিয়ে গেছে।

বড়াইবাড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লাল উল্লেখ করেন, যে ১৬জন সৈন্যের মৃতদেহ নিতে পারেনি সেগুলো বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ধানক্ষেতে পাওয়া যায়।

কেন রৌমারি আক্রমণ?

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ আক্রমণ করার একটি পটভূমি রয়েছে।

বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান ২০১২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল সিলেটের পদুয়াতে। সেখানে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ভারতের বিএসএফ একটি ক্যাম্প করে দীর্ঘদিন সে জায়গা দখল করে আছে।

সিলেটের পদুয়ায় বিএসএফের সে ক্যাম্প নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোন উত্তেজনা ছিল না।

২০০১ সালের প্রথম দিকে ভারতের বিএসএফ তাদের পাশের আরেকটি ক্যাম্পের সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতর দিয়ে।

এই রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের বিডিআর আপত্তি তুললেও ভারতের বিএসএফ তাতে কর্ণপাত না করে তাদের কাজ অব্যাহত রাখে।

এমন অবস্থায় বিডিআরের সে এলাকায় তাদের একটি অস্থায়ী অপারেশনাল ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

“আমরা পদুয়াতে যাই এবং সেখানে তিনটা ক্যাম্প স্থাপন করি। বিএসএফ সেখানে ছয়টা ফায়ার করে। এরপর তারা প্রায় ৭০ জনের মতো সেখানে সারেন্ডার করে। আমরা পদুয়া দখল করে নিয়েছি।”

তিনি বলেন, পদুয়ার ঘটনার জের ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের বড়ইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্প দখলের জন্য বিএসএফ বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকে।

ধারণা করা হয় ১৬ এপ্রিল সিলেটের পাদুয়ায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে দখল করতে গিয়ে বিডিআর জোয়ানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই তারা এ আক্রমণ চালায়।

এই যুদ্ধ ৪২ ঘণ্টাব্যাপী চলে। বিএসএফ হানাদারদের তাণ্ডবে পুড়ে ছাই হয়েছিল বড়াইবাড়ী গ্রামের ৮৯টি বাড়ি। সরকারি হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ টাকা।

ঘটনার দুদিন পরে বাংলাদেশের ভেতরে নিহত ১৬জন বিএসএফ সৈন্যের মরদেহ ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু শুরুতে ভারত সেগুলো গ্রহণ করতে চায়নি। কারণ, মৃতদেহগুলো অনেকটাই বিকৃত হয়ে পড়েছিল।

বিএসএফ’র এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ২০০১ সালের ২০শে এপ্রিল ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিডিআর যেসব মৃতদেহ এনেছিল প্রায় সবগুলোই এতোটা বিকৃত হয়ে গেছে যে সেগুলো চেনা যাচ্ছে না।
রৌমারি সংঘাতের পর অনেকে বিডিআরের ভূমিকাকে ‘সাহসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
রৌমারীর ঘটনার পর মেজর জেনারেল ফজলুর রহমানকে বিডিআরের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে সেনাবাহিনীতে ফেরত আনা হয়।

জেনারেল রহমান বলেন, “আপনারাই বিচার করুন। বর্ডারে রক্ষণাবেক্ষণ করবার দায়িত্বেই আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। আমি যদি ঐ সময়ে আপোষ করতাম, তাহলে এই সমালোচনা আমাকে শুনতে হতো না। আমার তো কাজই হলো সীমান্ত রক্ষা করা এবং সীমান্তের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া।”

এই যুদ্ধে বাংলাদেশের এক অবিস্মরণীয় জয় হয়, ভারতীয় সীমান্তবাহিনী বিএসএফ বিডিআর এর সাহসিকতা ও উপস্থিত পাল্টা আক্রমণে হার মানতে বাধ্য হয় এবং হয় শোচনীয় পরাজয়ের শিকার।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

2 মন্তব্যসমূহ

  1. ……………..

    হে আল্লাহ! তুমি সারাবিশ্বের মুজাহিদীন ভাইদের সুস্হতা এবং নিরাপত্তা দান করো ।
    এবং আল-ফিরদাউস মিডিয়ার সকল ভাইদেরকে সুস্হতা এবং নিরাপত্তা দান করো এবং ভাইদেরকে তোমার দ্বীনের জন্য কবুল কর ।
    আমিন….ছুম্মা আমিন……

  2. দেশ কোন দিকে যাচ্ছে সব স্পষ্ট,,,,
    কিন্তু,
    এখনো কি আমাদের বসে থাকার সময় আছে???

    হ্যাঁ প্রস্তুতি ছাড়া মাঠে যাওয়া বোকামি৷
    তাই প্রস্তুতি গ্রহণ আমাদের করতে হবে৷

    ভায়েরা আমার সবাইকে অনুরোধ করছি, https://dawahilallah.com এই লিংকে যে ওয়েবসাইট আছে, তাতে পাবেন গাজওয়াতুল হিন্দের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিভিন্ন টিপস ও কৌশল৷সবাইকে অনুরোধ একটু কষ্ট করে দেখে নিন ইনশাআল্লাহ উপকৃত হবেন ৷ এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান ইনশাআল্লাহ,,,,

    নতুবা আমরা ভবিষ্যতে যে গাজওয়া শুরু হতে যাচ্ছে তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাড়াব৷ কারণ প্রস্তুতিবিহীন মুজাহিদদের জন্য আমরা বোঝা হয়ে যাব ৷তখন আমাদের কারনে মুজাহিদদের কষ্ট হবে৷ তাই আমরা তা নিজে দেখে অন্যের কাছেও নিরাপত্তা ঠিক রেখে যতটুকু পারা যায় শেয়ার করি৷ রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,যে সঠিক পথ দেখায় সে আমল কারির মতো সওয়াব পায়৷”

    তাই আমরাও এই সওয়াবের অংশিদার হওয়ার চেষ্টা করি ইনশাআল্লাহ, ,,,,

    আরেকটি কথা, টরব্রাউজার দিয়ে ভিজিট করব আমরা ৷ এছাড়া আসবে না৷ এবং গোয়েন্দাদের চক্করে পড়ে যাব৷ তাই সাবধান! ! টরব্রাউজার যাদের নেই প্লে ষ্টোর থেকে ডাউলটনলোড করে নেব ৷

    আর যদি কোন ভাইয়ের ভিজিট করতে সমস্যা হয়,তাহলে আল ফিরদাউসের এডমিন ভাইদের জানিয়ে সহযোগিতা গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ,,,

    মাআসসালাম,,,

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন