ইসলামের তারকাগণ || পর্ব-২৮ || শামিল বাসায়েভ রাহিমাহুল্লাহ; আগ্রাসী রাশিয়ার ঘুম কেড়ে নেওয়া এক চেচেন বীর || (শেষ কিস্তি)

লিখেছেন: মুফতি আব্দুল্লাহ মুনতাসির

0
731

❝চলমান চেচেন যুদ্ধ ততদিন পর্যন্ত বন্ধ হবে না, যতদিন না প্রতিটি রাশিয়ান যুদ্ধের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করে নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া আমাদের ৪০ হাজারেরও বেশি শিশুকে হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার শিশুকে বিকৃত করেছে। এ বিষয়ে কেউ কি কিছু বলছে?… এর দায় পুরো রাশিয়ান জাতির, যারা নীরবতার মাধ্যমে রাশিয়ান সরকারকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।❞ —চেচেন কমান্ডার শামিল বাসায়েভ


(গত কিস্তির পর থেকে….)


রিয়াদুস সালিহিন ব্রিগেড ও শাহিদকার মাধ্যমে পরিচালিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন:

প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যেই সংগঠন দুটি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়৷ একের পর এক ঘটতে থাকে ইস্তেশহাদী হামলার ঘটনা। রুশ সেনারা বেদিশা হয়ে পড়ে। প্রতিটি হামলার পর শামিল বাসায়েভ হামলার দায় স্বীকার করে নেন। চেচনিয়া ও রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে চালানো এরকম বেশ কিছু হামলার দায় তিনি স্বীকার করেছেন। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে: চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে ট্রাক বোমা হামলা, চেচনিয়ার এফএসবি (১) সদর দফতরে ট্রাক বোমা হামলা, মোজদোকে রাশিয়ার সামরিক হাসপাতালে ট্রাক বোমা হামলা এবং মস্কো ও রাশিয়ার প্রাণকেন্দ্রর অন্যান্য স্থানে “অপারেশন বুমেরাং সিরিজ” বা ধারাবাহিক ইস্তেশহাদী বোমা হামলা (যার বেশিরভাগই ব্ল্যাক উইডোদের দ্বারা পরিচালিত)। এসবের প্রতিটি হামলায় অর্ধশতাধিক—শতাধিক রুশ সেনা নিহত ও শতশত সেনা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও শামিল বাসায়েভ রিয়াদুস সালিহিন ব্রিগেডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিম্মি অপারেশন পরিচালনা করেছিলেন, যেগুলো রিয়াদুস সালিহিনকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিত করে তুলেছিল। এগুলোর অন্যতম দু’টি হলো—

★ মিস্কো থিয়েটার জিম্মি অপারেশন:

২০০২ সালের ২৩ অক্টোবর প্রায় ৫০ জন মুজাহিদ মস্কোর দাভরোভকা থিয়েটারে প্রবেশ করে প্রায় হাজার খানিক দর্শক, অভিনয়শিল্পী এবং কলাকুশলীকে জিম্মি করেন। মুজাহিদদের কাছে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল এবং এই দলে শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে ব্ল্যাক উইডোরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে তখন মিউজিক থিয়েটার ‘নর্ড অস্ট’-এর দ্বিতীয় শো চলছিল। তাদের প্রধান দাবি ছিল চেচনিয়া থেকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে রুশ সেনা প্রত্যাহার করা। তিন দিনব্যাপী উক্ত অপারেশনে কমপক্ষে ১৩০ জন জিম্মি নিহত হয়েছিল।

★ বেসলান স্কুল জিম্মি অপারেশন:

২০০৪ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর রিয়াদুস সালিহিন ব্রিগেডের একদল সশস্ত্র ইস্তেশহাদী যোদ্ধা উত্তর ওশেতিয়ার বেসলান (রাশিয়ার উত্তর ককেশাস অঞ্চলের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র) শহরের স্কুল নম্বর ওয়ান (এসএনও) জিম্মি করেন। তারা চেচনিয়া থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার এবং স্বাধীনতার স্বীকৃতি দাবি করেছিলেন। এটি বেসলান গণহত্যা নামেও পরিচিত। সমগ্র বিশ্বে এটিই ছিল সবচেয়ে মারাত্মক স্কুল জিম্মি অপারেশন। জিম্মি হিসাবে ১,১০০ জনেরও বেশি লোককে অবরুদ্ধ করা হয়। টানা তিন দিনব্যপী চলমান এই অবরোধটি অন্তত ৩৫০ জনের মৃত্যুর (২) ভেতর দিয়ে সমাপ্ত হয়েছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে বাসায়েভ এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। জারিকৃত এক বিবৃতিতে তিনি এটিকে একটি “ভয়াবহ ট্র‍্যাজেডি” বলে অভিহিত করেছিলেন এবং এর জন্য ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেছিলেন।


আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ হামলার দায় স্বীকার:

২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বর রিয়াদুস সালিহিন ব্রিগেডের দ্বারা চালিত বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গ্রোজনির সরকারী সদর দফতরে বিস্ফোরিত হয়। সদর দফতরের চারতলা ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বসে পড়ে এবং প্রায় ৮০ জন নিহত হয়। বাসায়েভ এই ঘটনার দায় স্বীকার করেন। ২০০৩ সালের ১২ মে, ব্রিগেডের সদস্যরা উত্তর চেচনিয়ার নামেনস্কোয়ে রাশিয়ার একটি সরকারী কম্পাউন্ডে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ট্রাকে বিস্ফোরণ ঘটায়, এতেও ৫৯ জন নিহত হয়।

দুই দিন পরে, একজন মহিলা মস্কো-নিযুক্ত চেচেন প্রশাসনের প্রধান আহমাদ কাদিরভকে (৩) ইস্তেশহাদী হামলার মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আহমাদ কাদিরভ প্রাণে বেঁচে যায়। বাসায়েভ এই হামলারও দায় স্বীকার করেছেন। ২০০৩ সালের শেষের দিকে, বাসায়েভ মস্কো এবং স্টাভরোপোল ক্রাইয়ের ইয়েসেন্টুকিতে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন।

২০০৪ সালের ৯ মে রাশিয়াপন্থী চেচেন রাষ্ট্রপতি আহমাদ কাদিরভ গ্রোজনিতে একটি বোমা হামলায় নিহত হয়। পরে বাসায়েভ এই হামলার দায় স্বীকার করে নেন। বাসায়েভ এটিকে “ছোট, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিজয়” বলে অভিহিত করেছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ জুন ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্রের নাজারানের উপর আক্রমণের দায়ও বাসায়েভ স্বীকার করেছিলেন, যা সেখানে অবস্থিত একটি মন্ত্রী ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইঙ্গুশেতিয়ার স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রীসহ ৯২ জন নিহত হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয় ভবনটি পুড়ে গিয়েছিল। মস্কো মেট্রো স্টেশনে বোমা হামলা এবং ২০০৪ সালের আগস্টে মাঝ আকাশে একটি রাশিয়ান বিমানে বোমা বর্ষণের দায়ও বাসায়েভ স্বীকার করেছিলেন।

একের পর এরকম অসংখ্য হামলায় তিনি বাস্তবিক অর্থেই রাশিয়ার ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন। তাই ইতিহাসে তিনি “রাশিয়ার উসামা বিন লাদেন” নামে প্রসিদ্ধ। ২০০৩ সালের ৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল শামিল বাসায়েভকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করে।


আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শামিল বাসায়েভ রাহিমাহুল্লাহ:

কমান্ডার শামিল বাসায়েভ যখন নিজের দেহের ওপর ১০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের একটি মাথা নিয়ে চলাফেরা করতেন, তখনও তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এসে সাক্ষাৎকার দিতে বিন্দুমাত্রও ভয় করতেন না। এরকম দুটি সাক্ষাৎকারের বর্ণনা নিম্নে তুলে ধরছি।

২০০৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেনের চ্যানেল-৪ ঘোষণা দিল যে, তারা শামিল বাসায়েভের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করবে। জবাবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সম্প্রচার সন্ত্রাসীদেরকে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। তারা ব্রিটিশ সরকারের কাছে সম্প্রচার বাতিলের দাবি জানায়। কিন্তু ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিবের কার্যালয় জবাব দিয়েছে যে, তারা টিভি চ্যানেলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অবশেষে সাক্ষাৎকারটি নির্ধারিত সময়েই সম্প্রচারিত হয়েছিল, যার মাধ্যমে শামিল বাসায়েভ চেচনিয়ায় মুখোশধারী রাশিয়ার বীভৎস চেহারার বিশদ বর্ণনা দিয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে চেচনিয়ার প্রতি বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। এ প্রচেষ্টায় তিনি অনেকাংশে সফলও হয়েছিলেন।

একই বছরের আগস্টে বাসায়েভের আরও একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করে রাশিয়ান সাংবাদিক আন্দ্রেই বাবিটস্কি। এই সাক্ষাৎকারেই বাসায়েভ সেই ঐতিহাসিক হুমকি উচ্চারণ করেছিলেন, যা রাশিয়ার অন্তরে কাঁপন ধরিয়েছিল।

তিনি বলেছিলেন, “চলমান চেচেন যুদ্ধ ততদিন পর্যন্ত বন্ধ হবে না, যতদিন না প্রতিটি রাশিয়ান যুদ্ধের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করে নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া আমাদের ৪০ হাজারেরও বেশি শিশুকে হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার শিশুকে বিকলাঙ্গ করেছে। এ বিষয়ে কেউ কি কিছু বলছে?… এর দায় পুরো রাশিয়ান জাতির, যারা নীরবতার মাধ্যমে রাশিয়ান সরকারকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।”

মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসি তাদের নাইটলাইন প্রোগ্রামে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করে মস্কো ২০০৫ সালের ২ আগস্ট এবিসি নেটওয়ার্কের সাংবাদিকদের রাশিয়ায় কাজ করা নিষিদ্ধ করে দেয়।


প্রভুর সান্নিধ্যলাভ:

১৯৯৯ সাল থেকে মৃত্যু অবধি রাশিয়া কমপক্ষে সাতবার শামিল বাসায়েভকে হত্যার দাবি করেছে। কিন্তু প্রতিবারই রাশিয়ার দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ২০০২ সালের মে মাসে রাশিয়া কর্তৃক বাসায়েভকে হত্যার ঘোষণা এবং ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ান সরকার কর্তৃক তাঁকে হত্যার দাবি।

২০০৬ সালের ১০ জুলাই চেচনিয়া সীমান্তবর্তী ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্রের একজিভো গ্রামে অবিসংবাদিত চেচেন নেতা, কমান্ডার শামিল বাসায়েভ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ত্যাগ করে চিরস্থায়ী জান্নাতের বাসিন্দা হয়ে যান (ইনশাআল্লাহ)। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪১ বছর।

ইঙ্গুশেতিয়ান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১০ জুলাই গভীর রাতে তিনটি গাড়ি এবং দুটি ট্রাক গ্রামের উপকণ্ঠে জড়ো হয়েছিল। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, কালো ইউনিফর্মপরা কিছু লোক এসে বাক্স বহন করে এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। উক্ত বিস্ফোরণে শামিল বাসায়েভ ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন। তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, বিদেশ থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গ্রহণের প্রেক্ষাপটে এটি হয়েছিল। শামিল বাসায়েভ নিজেই অস্ত্রের রসিদ গ্রহণ এবং অস্ত্র বিতরণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেসময় মাটিতে একটি মাইন পরীক্ষা করতে চাইলে মাইনটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিস্ফোরিত হওয়ার ফলে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। চেচেন মুজাহিদরা ভয়েস অফ দ্য ককেশাস ওয়েবসাইটে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে কমান্ডার শামিল বাসায়েভের শাহাদাতের খবর নিশ্চিত করেন।

তবে রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী এফএসবি একটি ড্রোন দিয়ে শামিল বাসায়েভের গাড়িটি আগে থেকেই ট্র‍্যাক করছিল এবং রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে এফএসবি আগে থেকেই প্রস্তুত করা বিস্ফোরক বোঝাই একটি ট্রাক দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল। যার ফলে শামিল বাসায়েভ মৃত্যুবরণ করেন।


শেষ কথা:

শামিল বাসায়েভরা পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকেন না; বেঁচে থাকেন সামান্য কিছু সময়। কিন্তু এই সামান্য সময়েই তাঁরা কয়েক প্রজন্মের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যান। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে তাঁরা তৈরী করে দেন বিজয়ের মহাসড়ক। উত্তরসূরীদের জন্য উত্তম আদর্শ হয়ে তাঁরা বেঁচে থাকেন যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী। শত বাধা-বিপত্তির সামনেও কীভাবে বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সে সবক রেখে যান পরবর্তীদের জন্য। সাথে রেখে যান তাঁদের আদর্শে আদর্শবান হয়ে তাঁদের রেখে যাওয়া আযাদী আন্দোলনকে আরও বেগবান করার চ্যালেঞ্জ, বপন করে দিয়ে যান দায়িত্ববোধের বীজ।

বিশ্ব-মোড়লদের চোখে চোখ রেখে তারা বলে গেছেন যে, আমরা মানি না তোমাদের মনগড়া সংবিধান! মানি না তোমাদের জুলুমের ব্যবস্থা আর ধোঁকাবাজির আইন। মিথ্যে ক্যারিয়ার গড়বার অলীক স্বপ্নচারিতায় হারিয়ে না গিয়ে মাজলুম উম্মাহর মা-বোনদের পাশে দাঁড়াবার দৃঢ় প্রত্যয় আর অদম্য স্পৃহা তাঁরা প্রতিস্থাপন করে যান পরবর্তী প্রজন্মের বুকে। তাঁদের আদর্শে নিজেদের রাঙিয়ে নিজেদের জীবনকে নিশ্চিত হুমকির মুখে ঠেলে দিতে তরুণরা তাই আজ প্রতিযোগিতায় নামছে, “কে হবে ভারতবর্ষের আগামীর শামিল বাসায়েভ!”


নোট:

(১) এফএসবি: রাশিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কেজিবির প্রধান উত্তরসূরি সংস্থা।

(২) এসকল ইস্তেশহাদী হামলায় রুশ সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অনেক সাধারণ  রাশিয়ানও নিহত হয়েছিল। বেসলান স্কুল জিম্মির সময় শতাধিক শিশু নিহত হয়েছিল বলেও দাবি রাশিয়ার। এগুলোকে হাইলাইট করে আন্তর্জাতিক মিডিয়া শামিল বাসায়েভের এজাতীয় আক্রমণকে নৃশংস ও মানবতাবিরোধী আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা করেছে। অথচ সন্ত্রাসী রাশিয়ার নৃশংস আক্রমণে চেচনিয়ার নিহত শিশুর সংখ্যাই ৪০ হাজারেরও বেশি। এছাড়া বেসামরিক জনগণ, বৃদ্ধ ও নারীদের সংখ্যা তো অগণিত। রুশ সেনাদের দ্বারা চেচেন নারীদের ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা তো একদম স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল। এগুলো নিয়ে মিডিয়ার কোনো মাথা ব্যথা-ই নেই। যেন এমনটাই হওয়ার কথা!!!

(৩) আহমাদ কাদিরভ, চেচনিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। চেচেন প্রজাতন্ত্রের রুশপন্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রমজান কাদিরভের পিতা। রমজানের মতো তার পিতাও ছিল রাশিয়ার নিষ্ঠাবান সেবক। নিজের দেশ ও জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সে বিকিয়ে দিয়েছিল রাশিয়ার কাছে। বিনিময়ে পেয়েছিল অল্পকিছু দিনের ক্ষমতা।


তথ্যসূত্র:

(১) কমান্ডার শামিল বাসায়েভ:
https://tinyurl.com/bdebrw2h

(২) মস্কো থিয়েটারে জিম্মি অপারেশন:
https://tinyurl.com/56ekt8nx

(৩) বেসলান স্কুল জিম্মি অপারেশন:
https://tinyurl.com/4x5v58np


আগের পর্বগুলো পড়ুন

ইসলামের তারকাগণ || পর্ব-২৪ || শামিল বাসায়েভ রাহিমাহুল্লাহ; আগ্রাসী রাশিয়ার ঘুম কেড়ে নেওয়া এক চেচেন বীর। (প্রথম কিস্তি)

ইসলামের তারকাগণ || পর্ব-২৫ || শামিল বাসায়েভ রাহিমাহুল্লাহ; আগ্রাসী রাশিয়ার ঘুম কেড়ে নেওয়া এক চেচেন বীর || (দ্বিতীয় কিস্তি)

ইসলামের তারকাগণ || পর্ব-২৬ || শামিল বাসায়েভ রাহিমাহুল্লাহ; আগ্রাসী রাশিয়ার ঘুম কেড়ে নেওয়া এক চেচেন বীর || (তৃতীয় কিস্তি)

ইসলামের তারকাগণ || পর্ব-২৭ || শামিল বাসায়েভ রাহিমাহুল্লাহ; আগ্রাসী রাশিয়ার ঘুম কেড়ে নেওয়া এক চেচেন বীর || ( চতুর্থ কিস্তি)

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধসোমালিয়ায় শহরের নিয়ন্ত্রণ নিল আশ-শাবাব: হতাহত অন্তত ৬৫ সেনা
পরবর্তী নিবন্ধআল-ফিরদাউস নিউজ বুলেটিন || আগস্ট ১ম সপ্তাহ, ২০২৩ঈসায়ী ||