ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের দিতে হয়েছে চড়া মূল্য

2
1709
ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের যত মূল্য দিতে হয়েছে

বিশ্ব যেমন ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলের বর্বরতম আগ্রাসন প্রত্যক্ষ করেছে, ইহুদীরা যেভাবে টনকে টন বোমা ফেলে আল-জাজিরা, মিডিল ইস্ট আই সহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অফিস ও মুসলিমদের বাড়ি-ঘরগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে; তেমনি ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে দখলদার মালাউনদের হিংস্র চেহারা বিশ্ববাসী যুগ যুগ ধরে অবলোকন করে আসছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে হিন্দুত্ববাদী মুশরিক প্রশাসন কর্তৃক কাশ্মীরি মুসলিমদেরকে দেয়া হুমকিটি পড়ুন-“ফিলিস্তিনের দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় করা বিষয়গুলোর প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ নজর রেখেছে… সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য, যা সহিংসতাকে উষ্কে দেয় এবং কোভিড ১৯ প্রটোকল লঙ্ঘন করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

কাশ্মীরি মুসলিমরা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের সমর্থন করার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনের গাজায় আগ্রাসন বন্ধের লক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করছিল তখনই দখলদার পুলিশ কর্তৃক এমন ঘোষণা আসে।

মুসলিমদের এই জনপদ হিন্দুত্ববাদী মালাউনরা সামরিক শক্তি বলে জোড়পূর্বক দখল করে রেখেছে, যার জুলুমের তুলনা অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের সাথেই দেয়া যায়।
ফিলিস্তিনিরা যেভাবে নিজ ভূখন্ডে বসতি স্থাপনকারী ইহুদীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, কাশ্মীরিরাও তেমনি দখলদার মালাউনদের থেকে মাতৃভূমি আজাদীর সংগ্রামে লড়াইরত !

IMG-20210526-165408-158

সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের সমর্থনে এক কাশ্মীরি ভাই শ্রীনগরে ফিলিস্তিন পতাকার হিজাব পরিহিত কান্নারত এক ফিলিস্তিনি মহিলার ছবি অংকন করেন, যাতে লিখা ছিল “আমরা ফিলিস্তিনি”; পরে মালাউন পুলিশ এটাকে কালো রং দিয়ে ঢেকে দেয়।
চিত্র অংকনকারী ভাই ও ফিলিস্তিনি মুসলিমদের সমর্থনে বিক্ষোভকারী ২০ কাশ্মীরি মুসলিমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সারজান বরকতী নামে একজন আলেম নিজ গ্রামে ঈদের খুতবায় ফিলিস্তিনি মুসলিমদের জন্য প্রার্থনা এবং ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের স্বাধীনতার স্বপক্ষে স্লোগান দেয়ায় মালাউন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে স্বতন্ত্র স্লোগান দেয়ায় প্রসিদ্ধ বরকতী, গত বছরের অক্টোবর মাসে চার বছরের বন্দীত্ব জীবন কাটানোর পর নিজ গ্রামে ফিরেছিলেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইল ও হিন্দুত্ববাদী ভারতের আগ্রাসনের অভিন্নতাঃ

IMG-20210526-165403-746

১৯৮০ সালের শেষের দিকে কাশ্মীরিদের জনসমর্থনে দানা বাধা স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে একজন ফিলিস্তিনি ভাই কাশ্মীরে এসেছিলেন। পরে তিনি মালাউন পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হন ও কারাগারে মারা যান।

২০১৪ সালে গাজায় যখন দখলদার ইসরাইল বোমা হামলা চালাচ্ছিল, তখন ফিলিস্তিনের সমর্থনে প্রতিবাদকারী ১৪ বছরের কাশ্মীরি ছেলেকে ভারতীয় বাহিনী গুলি করে মারে। হাজার হাজার কাশ্মীরি সেদিন প্ল্যাকার্ড নিয়ে “গাজা বাঁচাও”, ” ইসরাইল হটাও” পাশাপাশি “ভারত হটাও; “ভারত ফিরে যাও” স্লোগান দিয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের উপর দখলদার ভারতীয় বাহিনী যখন গুলি চালায়, নিহত হওয়া ছেলেটি তখন প্রতিরোধকারী পাথর ছোঁড়াদের দলে ছিল।

কাশ্মীরি বুদ্ধিজীবী আতহার জিয়া বলেন,”ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পক্ষে স্লোগান, নিপীড়নের প্রতিফলন এবং উভয় অঞ্চলে দখলদার কর্তৃক আরোপিত কঠোর নীতিমালার বিচারে; সংহতি পাওয়ার যোগ্য উভয় জনপদই যেন একে অন্যের প্রতিচ্ছবি!”

কাশ্মীরে ভারতীয় হিন্দুদের বসতি গড়ার লক্ষে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন ২০১৯ সালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা ফিলিস্তিনে ইসরাইলের ইহুদি বসতি স্থাপনের অনুরুপ।

ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলিদের আরোপিত বয়কট, বিভক্তিকরণ ও নিষেধাজ্ঞা, যা পরাধীন কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসনের মতোই।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে, যখন পুরো কাশ্মীর জুড়ে দখলদার ভারত তথ্য ও যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়; তখন একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতের রাষ্ট্রীয়দূত কাশ্মীরে ইসরাইলি দখলদারিত্বের পদ্ধতি প্রয়োগের আহবান জানায়।

ইন্দোঃ-ইসরাইল সামরিক সম্পর্কঃ

IMG-20210526-165857-714

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি অধিবেশনে ফিলিস্তিন-ইসরাইল উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নিন্দায় ভারত “সমস্ত সহিংসতার ঘটনা” বলে অস্পষ্টভাবে মূলত গাজা থেকে ইসরাইলে রকেট হামলারই সমালোচনা করেছে। এটি একটি ভারতীয় প্রচেষ্টা যা কাশ্মীরের অনুরুপ জায়োনিস্ট ইসরাইলকে ফিলিস্তিনে জাতিগত নির্মূল চালিয়ে যাওয়ার সমর্থন যোগায়।

২০১৫ সালে গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা প্রস্তাবে জাতিসংঘে যখন ভোটাভুটি চলছিল, ভারত তখন ইসরাইলকে ভোট দানে বিরত থাকে, যা ভারত-ইসরাইল প্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, ইসরাইল ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার, যারা ভারতকে প্রতিবছর গড়ে ১ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র বিক্রি করে। ভারত ইসরাইলের অস্ত্র বানিজ্যের প্রধান ক্রেতা। গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ইসরাইলের সাথে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে।

ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরকে দখলকারী ইসরাইল ও ভারত দখলদারিত্বের নিজস্ব ইতিহাস, কৌশলগত পদ্ধতি, হিংস্রতা ও দমন-পীড়নে নিজেরা অভিন্ন, যারা ইসলাম বিদ্বেষে অগ্রগণ্য আর মুসলিমদের উপর আগ্রাসনে ঐক্যবদ্ধ।

মুসলিম বসতি ধ্বংস, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, ইতিহাস বিলুপ্তি, মৃতের লাশ দাফন-জানাজার জন্য হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সন্ত্রাসীপনা ও নজরদারি প্রযুক্তি উন্নয়নে উভয় দখলদার রাষ্ট্রই সাদৃশ্যপূর্ণ। গুম, গণহত্যা, নির্যাতন, নারী ধর্ষন, খেয়ালখুশি মতো কারারুদ্ধকরণ ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর অঘোষিত প্রতিদিনের রেওয়াজ।

ফিলিস্তিনের ন্যায় কাশ্মীরিরাও যুগযুগ ধরে নিজ মাতৃভূমিতে দখলদার ভারতের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন আর সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বেঁচে আছে। অপরদিকে সন্ত্রাসী ভারত ও ইসরাইল মুসলিম নির্মূলের নিত্যনতুন ছক কষছে, অত্যাধুনিক অস্ত্রে নিজেদের সজ্জিত করছে।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন